যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবীর। তিনি কমনওয়েলথের এক সফরে ব্রিটেনে এসে হিথরো বিমানবন্দরে নেমেই সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি সুসংবাদ হলো, লন্ডনে নিযুক্ত যে হাইকমিশনার এতদিন বিভেদমূলক আচরণ ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের কমিউনিটিকে বিভক্ত করে রেখেছিলেন এবং সবকিছুতে দলীয়করণের (আওয়ামীকরণ) চেষ্টা করেছেন, তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি কমিউনিটির স্বার্থ কিংবা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের তোয়াক্কা না করে কেবল দলীয় স্বার্থ হাসিল করতেই ব্যস্ত ছিলেন।’ এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান পাশে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র মতে, আবিদা ইসলামের পরিবর্তে লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য আপাতত দুটি নাম সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তারা হলেন মেক্সিকোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিক ফজল আনসারী এবং রাশিয়ায় নিযুক্ত সহকারী রাষ্ট্রদূত ফয়সল আহমেদ। তাদের মধ্য থেকে একজনকে যুক্তরাজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার আবিদা ইসলামকে লন্ডনে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সরকারের প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য প্রদর্শনের অভিযোগ ছিল বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। এর মধ্যে লন্ডনে বাংলাদেশ সেন্টারকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে একটি বড় বিতর্ক তৈরি হয়, যা প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি অযাচিতভাবে বৈঠক ডেকে সেখানে হাইকমিশনের কর্মকর্তা দিয়ে অশোভন আচরণ করিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে নিজে পুলিশ ঢেকে তারপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
এরপর বাংলাদেশ সেন্টারকে নিজের পছন্দমতো কমিউনিটির একাংশের হাতে তুলে দেওয়ার লাগাতার চেষ্টা করেন। এ ছাড়া হাইকমিশনের প্রোগ্রামে একটি বিশেষ দলকে সুবিধা ও গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও নিয়ে কমিউনিটিতে এ নিয়ে মারাত্মক বিভাজন তৈরি করেন তিনি।