ভোটার তালিকাভুক্ত ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেতে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় মূল ফরমে নাগরিকের ডাকনাম রাখার বিষয়টি যুক্ত করতে চায় জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। পরিচয় শনাক্তের সুবিধার্থে এনআইডিতে ডাকনাম না থাকলেও জাতীয় তথ্যভান্ডারে তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ ছাড়া এনআইডি সংশোধন ফি বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
গতকাল নির্বাচন কমিশনের এনআইডি উইং মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর এ তথ্য জানান। বর্তমানে ভোটার তালিকায় আঠারো বছর বা তার বেশি বয়সি নাগরিক রয়েছে পৌনে ১২ কোটি। পাশাপাশি ১৬-১৭ বছর বয়সিদেরও এনআইডি সেবা দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নাগরিকের সব তথ্য রয়েছে ন্যাশনাল ডেটাবেজে। নাগরিকের এনআইডি সেবা পেতে নিবন্ধন ফরম-২-এ ৪০-৪৫টি তথ্য পূরণ করতে হয়। এনআইডি উইং ডিজি বলেন, ‘এনআইডিতে ডাকনাম রাখব/দেব এটা চিন্তা করিনি আমরা। ডেটাবেজে যাতে ডাকনাম থাকে সে প্রস্তাব রাখছি।’ ডাকনাম নিয়ে বিড়ম্বনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ‘অনেকের ডাকনাম থাকে, আবার অফিসিয়াল নাম থাকে; দেখা যায় কারও কারও ডাকনামে এনআইডি হয়ে গেছে। পরে এসে অফিসিয়াল নামটা বসাতে চায়; অথবা ডাকনামে লোকজন তাকে চেনে, অফিসিয়াল নামে চেনে না এলাকার লোকজন। সেজন্য আমরা নিবন্ধন ফরমে ডাকনামটা যেন ইনক্লুড করতে পারি, সেজন্য নির্বাচন কমিশনে প্রস্তাব করছি। ডাকনামটা ডেটাবেজে থাকবে; যাতে তাকে সহজে চেনা যায়, আইডেন্টিফাই করা যায়। ইসির অনুমোদন পেলে ফরম-২-এ এটা করব আমরা।’ সংশোধন ও যাচাই ফি বাড়ানোর চিন্তা : ২০০৭-২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান কার্যক্রম চালু করে তৎকালীন নির্বাচন কমিশন। এ ধারাবাহিকতায় এনআইডি সংশোধন ফি নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এনআইডি তথ্য যাচাইয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এককালীন নির্ধারিত ফি দিতে হয় এবং প্রতিবার তথ্য যাচাইয়ে ফি দিতে হয়। এনআইডি উইং মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘এনআইডি সংশোধনের জন্য এখন একটা ফি দিতে হয়; এটা গ্র্যাজুয়ালি বাড়বে। এনআইডি সংশোধন একবার করার পর কোনো কারণে আরও কয়েকবার করল; কিন্তু ৫-১০ বার সংশোধন করা তো সমীচীন নয়। সবাই যেন সতর্ক হয়, যাতে বারবার আবেদন না করে এবং বারবার করলে তাকে বেশি ফি দিতে হবে।’