রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে লঞ্চের কেবিনে ধর্ষণের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সোমবার দিবাগত রাতে ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ফারহান-০৪ নামের একটি লঞ্চে ওঠেন ওই শিক্ষার্থী (১৭)। দুপুরের দিকে তার বাবা তাকে লঞ্চের ৩২৮ নম্বর কেবিনে তুলে দেন। একই সময় ওই
লঞ্চে ওঠে মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬) ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২)। লঞ্চ ছাড়ার কিছুক্ষণ পর তারা কেবিনের দরজায় নক করে নিজেদের পরিচয় দেয়। তারা দাবি করে, তারা ভুক্তভোগীর বাবাকে চেনে। এরপর মোটরসাইকেল কেনার টাকা নিরাপত্তার জন্য তার কাছে রাখার অনুরোধ করে। সরল বিশ্বাসে ওই শিক্ষার্থী তাদের টাকা রাখতে সম্মতি দেন।
এজাহারে বলা হয়, পরে তারা কৌশলে আমার বোনের কেবিনের মধ্যে প্রবেশ করে আমার বোনের বেডে বসে পড়ে। আমার বোনের সঙ্গে কথাবার্তা বলার একপর্যায়ে মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন আমার বোনকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিলে আমার বোন রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তরা আমার বোনের গলা ও মুখ চেপে ধরে। তখন মিঠু আমার বোনের কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে কেবিন থেকে বের হয়ে যায়। এ সময় মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন কেবিনের দরজা বন্ধ করে আমার বোনকে ধর্ষণ করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, এ সময় আমার বোন ডাক-চিৎকার করার চেষ্টা করলে মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন এ ঘটনা কাউকে জানালে আমার বোনকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে কেবিন থেকে বের হয়ে যান। পরে রাত ৮টার দিকে সাকিব ও মিঠু আবারও কেবিনে প্রবেশ করলে আমার বোন চিৎকার করার চেষ্টা করলে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে ভিকটিমকে আবার ধর্ষণ করে তারা। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের টিম অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।