মাদারীপুর পৌর শহরের লক্ষ্মীগঞ্জ এলাকার নতুন মাদারীপুরে রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আলমগীর হাওলাদার (৫৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। গতকাল সকালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আলমগীর লক্ষ্মীগঞ্জ এলাকার হাফেজ হাওলাদারের ছেলে এবং সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মনিরুজ্জামান আখতার হাওলাদারের চাচাতো ভাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে সংঘর্ষে সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুন্সি নিহত হন। শাকিল মাদারীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মুন্সির ভাই। সেই ঘটনার পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান আখতার হাওলাদার ও বিএনপি নেতা হাসান মুন্সির সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। এরই জেরে গতকাল সকালে দুই পক্ষের সমর্থকরা দেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় গুরুতর আহত হন আলমগীর হাওলাদার। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে রবিবার রাতেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে উভয়পক্ষ টর্চলাইট জ্বালিয়ে দফায় দফায় অর্ধশতাধিক হাতবোমা নিক্ষেপ করে। বোমার বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা নিরাপত্তার জন্য ঘরের ভিতর অবস্থান নেন।
এদিকে গতকাল বিকালে নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন মাদারীপুর এলাকায় কমপক্ষে ১৫টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে মনিরুজ্জামান আখতার হাওলাদারের সমর্থকরা এই লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছেন। এ সময় মাদারীপুর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান লাভলু হাওলাদারের বাড়িঘরেও হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হামলাকারীরা বিভিন্ন বাড়ি থেকে গরু, টিভি, ফ্রিজসহ নানা মালামাল লুটপাট করে বলে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী নিশ্চিত করেছেন। খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক বলেন, ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।