চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ভবন থেকে পড়ে গতকাল ভোরে মো. মহিম নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত মহিম কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুর এলাকার মো. আবুল কামালের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা গ্রামে বসবাস করে আসছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় মহিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকে অনুসারীরা। এরপর তারা পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দরজা ভেঙে ফেলে এবং মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহতের মা মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে রাত দেড়টার দিকে একজন লোক ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় এবং সকালে খবর পাই ভবন থেকে পড়ে মারা গেছে। আমার মনে হচ্ছে, ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী বলেন, সকালে পুলিশ নিহত মহিমকে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবরে তার সঙ্গী ও স্বজনরা হাসপাতালে জড়ো হতে থাকেন। পরে পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে জরুরি বিভাগের দরজা-গ্লাস ভাঙচুর করে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা নিহতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, ওই ভবনে চুরি করতে গিয়ে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনোয়ারা থানায় চারটি মামলা আছে।