মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটের প্রভাব মোকাবিলা করে আবাসন খাতের নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল সহায়তা চেয়েছে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য গৃহঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান রিহ্যাবের সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধকে ঘিরে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে দেশের আবাসন খাতেও। এ পরিস্থিতিতে নির্মাণ কার্যক্রম সচল রাখতে বিশেষ তহবিল প্রয়োজন। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গভর্নর বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং এ বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন। রিহ্যাব সভাপতি বলেন, খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান মানুষের মৌলিক চাহিদা। কিন্তু বর্তমানে উচ্চ সুদের কারণে গৃহঋণ নেওয়া অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে আবাসন খাতে চাহিদা কমছে। এ পরিস্থিতিতে গৃহঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার সুযোগ তৈরি করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বৈঠকে সংগঠনটি আবাসন খাতের উন্নয়নে আরও কয়েকটি প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে রয়েছে গ্রিন বিল্ডিং, সৌরবিদ্যুৎ ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণ প্রকল্পে বিশেষ অর্থায়ন সুবিধা চালু করা।
পাশাপাশি ঢাকার ওপর চাপ কমাতে জেলা ও উপজেলা শহরে আবাসন প্রকল্পে বিশেষ অর্থায়নের ব্যবস্থা এবং কম সুদে আবাসন ঋণ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।
রিহ্যাবের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরবরাহ করা তালিকায় আবাসন বা নির্মাণ খাতকে অনুৎপাদনশীল খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে এবং শ্রমিক অসন্তোষও তুলনামূলক কম। তাই আবাসন খাতকে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়েছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে আবাসন খাত আরও গতিশীল হবে, সাধারণ মানুষের জন্য বাসস্থান ক্রয় সহজ হবে এবং সামগ্রিকভাবে জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।