রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গ্রামগুলোতে এখন টুপি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারীরা। ঈদ সামনে রেখে টুপিশিল্পের শ্রমিক, মালিক ও পাইকারদের কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে। উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের শাহবাজপাড়া, শহীদবাগ ইউনিয়নের সাব্দীসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে ঘরে বসে কিংবা উঠানে মেশিনে টুপি তৈরি করতে দেখা যায় নারীদের। কাউনিয়া ও পাশের পীরগাছা উপজেলার প্রায় ৪৫ গ্রামের ১ লাখের বেশি নারী এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের তৈরি টুপি দেশের চাহিদা মিটিয়ে ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এতে বাড়তি আয় করে অনেক নারী সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন।
শাহবাজ গ্রামের মেনেকা রানী আট বছর ধরে টুপি তৈরির কাজ করছেন। তিনি প্রতিদিন ১০-১২টি টুপি তৈরি করে পিসপ্রতি ৩০ টাকা মজুরি পান। জাহানারা বেগম ছয় মাস ধরে এ কাজে যুক্ত হয়ে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮টি টুপি তৈরি করেন। কারিগররা জানান, সংসারের কাজ শেষে টুপিতে নকশা করে বাড়তি আয় করছেন তাঁরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, এখানকার একটি টুপি ওমানের বাজারে প্রকারভেদে ৫ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়, আর দেশে দাম ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা। স্থানীয় উদ্যোক্তা হাফেজ মাওলানা আবদুল আউয়াল জানান, তাঁর অধীনে প্রায় ১২ হাজার নারী ঘরে বসে টুপির ফর্মা তৈরি করেন। এজেন্টদের মাধ্যমে এসব টুপি সরাসরি ওমানে পাঠানো হয়। স্থানীয়দের মতে ২০০৩ সালের দিকে কাউনিয়ায় টুপি ব্যবসা শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে। এখন গোটা কাউনিয়া উপজেলাই যেন টুপির এক বড় উৎপাদন কেন্দ্র।