আরও সাতটি সংসদীয় আসনের পরাজিত প্রার্থীর নির্বাচনি আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাই কোর্ট। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ ও গণনায় অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগ এনে ফলাফল চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এসব আবেদনে। গতকাল প্রাথমিক শুনানির পর বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাই কোর্ট বেঞ্চ এসব আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি নোটিস জারি করেন। একই সঙ্গে ব্যালট পেপার, রেজাল্টশিটসহ সব নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। আসন সাতটি হলো, খুলনা-৫, বরগুনা-২, ঢাকা-১১, পিরোজপুর-২, চুয়াডাঙ্গা-১, মাদারীপুর-১ ও নীলফামারী-২। আবেদনকারীদের মধ্যে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী আছেন চারজন, আর তিনজন আছেন জামায়াতের পরাজিত প্রার্থী। এই সাতটিসহ এখন পর্যন্ত ২৮টি নির্বাচনি আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাই কোর্টের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল। আদালতে বিএনপির আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দস কাজল। আর জামায়াতের আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। পরে আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল ও আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, আদালত আবেদনগুলো শুনানির জন্য গ্রহণ করে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নোটিস জারি করেছেন। আগামী ১৬ জুন নোটিস ফেরতের তারিখ ধার্য করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এসব আসনের ব্যালট পেপার, মুড়িবইসহ ভোট ও ফলাফল সংশ্লিষ্ট সবকিছু যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুলনা-৫ আসনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছেন জামায়াতের পরাজিত প্রার্থী এবং দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এই আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মোহাম্মদ আলী আসগর। বরগুনা-২ আসনের ফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছেন জামায়াতের পরাজিত প্রার্থী সুলতান আহমদ। এই আসনে নির্বাচিত বিএনপির নূরুল ইসলাম মনি। ঢাকা-১১ আসনের ফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছেন বিএনপির পরাজিত প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। এই আসনে নির্বাচিত হয়েছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
পিরোজপুর-২ আসনের ফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছেন জামায়াতের পরাজিত প্রার্থী শামীম সাঈদী। এই আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির আহমেদ সোহেল মঞ্জুর। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের ফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছেন বিএনপির পরাজিত প্রার্থী মো. শরীফুজ্জামান। এই আসনে নির্বাচিত হয়েছেন, জামায়াতের মাসুদ পারভেজ রাসেল। মাদারীপুর-১ আসনের ফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছেন বিএনপির পরাজিত প্রার্থী নাদিরা আক্তার। এই আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। আর নীলফামারী-২ আসনের ফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছেন বিএনপির পরাজিত প্রার্থী শাহরিন ইসলাম। এই আসনে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের আল ফারুক আবদুল লতিফ।