সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভিডিও শেয়ার করায় আরব আমিরাতে বাংলাদেশিসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, শেয়ার করা ভিডিওটি ভুয়া, এরকম ভিডিও শেয়ার করা গুজব ছড়ানোর শামিল। সূত্র : আমিরাত নিউজ এজেন্সি, খালিজ টাইমস।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি ছাড়াও রয়েছে ইরান, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মিসর, নেপাল, ক্যামেরুন ও ভারতের নাগরিক। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন কনটেন্ট নিয়ে তদন্তের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিয়মিত নজরদারির ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, কিছু অসাধু চক্র বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে অপপ্রচার চালাচ্ছিল। তদন্তে দেখা গেছে, আসামিরা এমন কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছে যেখানে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) হামলা ঠেকিয়ে দিচ্ছে এমন বাস্তব ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে। অন্য কিছু ক্লিপে মাটিতে পড়ে থাকা প্রজেক্টাইল বা উৎসুক জনতার ভিড় দেখানো হয়েছে। এ ছাড়াও সন্দেহভাজনরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা কিছু বানোয়াট ভিডিও ছড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের কনটেন্ট প্রকাশ করলে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। এটি বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাশাপাশি শত্রুভাবাপন্ন গণমাধ্যমকে তথ্য বিকৃত করার বা জাতীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট করার সুযোগ করে দেয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল ড. হামাদ সাইফ আল শামসি জানিয়েছেন, এ ধরনের কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর শাস্তি হিসেবে কমপক্ষে এক বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ১ লাখ দিরহাম জরিমানার বিধান রয়েছে।