জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিংব্যবস্থা তুলে নিয়েছে সরকার। আমদানিকৃত কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ দেশে আসায় ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবং বোরো মৌসুমে কৃষকের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এই রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়। তবু গতকাল দিনভর রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে ছিল ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন। অনেক ফিলিং স্টেশনে আবার তেল পাওয়া যায়নি। যদিও ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল চাহিদামতো তেল পাওয়ার কথা ছিল।
রাজধানীর মালিবাগ হাজীপাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন, ডেমরার সিকদার ফিলিং স্টেশন, মধ্যবাড্ডার সিটিজেন সিএনজি ও পেট্রোলিয়াম স্টেশনে গতকাল তেল বিক্রি বন্ধ ছিল। এসব স্টেশনে কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে জানান-পাম্পে তেল নেই, এলে বিক্রি করা হবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ লাইনে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। তবে ইতোমধ্যে আমদানিকৃত কয়েকটি জ্বালানি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় জনগণের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা এবং বোরো মৌসুমে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে জ্বালানি তেল বিতরণে রেশনিংসহ সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে দেশের সব বিতরণ পয়েন্টে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। এদিকে গতকাল সচিবালয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশের সব ফিলিং স্টেশনে এখন থেকে চাহিদা অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ ও বিক্রি করা যাবে। বোরো মৌসুমে কৃষকদের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় তেল বিতরণে সব ধরনের রেশনিং তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আশপাশে কেউ যেন অসাধু উপায়ে তেল মজুত করে বাড়তি ফায়দা নিতে না পারে এবং লুটপাট করতে না পারে সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘পেট্রোল আমরা আমদানি করি না। এটি কনডেনসেন্ট থেকে তৈরি করি। কিন্তু আমাদের গ্যাসকূপগুলো থেকে চাহিদা মতো কনডেনসেন্ট পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের কিছু কনডেনসেন্টও আমদানি করতে হয়। বিশ্বের ৮৫টি দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও প্রতি গ্যালনে ৫০ থেকে ৬০ সেন্ট পর্যন্ত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের মতো একটি দেশে নতুন সরকার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেনি। দেশের অর্থনীতি যতদিন পর্যন্ত এই চাপ সহ্য করতে পারবে সে মুহূর্ত পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের নেই। আমরা ভারতের কাছে জ্বালানি সহায়তা চেয়েছি।’ তেলের সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে জেলা প্রশাসনকে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ : জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে জেলা প্রশাসনকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল এ-সংক্রান্ত এক অনলাইন মতবিনিময় সভায় তিনি এই নির্দেশ দেন। এ সময় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং সব জেলা প্রশাসক। সভায় প্রতিমন্ত্রী প্রতিদিন ডিপোর প্রারম্ভিক ও সমাপনী মজুত যাচাই করে রিপোর্ট দিতে বলেছেন।
ডিপো থেকে পেট্রোল পাম্পে বরাদ্দকৃত জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলেছেন। সব কাস্টমারদের (পেট্রোল পাম্প ডিলার, এজেন্সি ডিলার, প্যাক্ড পয়েন্ট ডিলার ও ডিরেক্ট কাস্টমার) সরবরাহ ও বিতরণ তদারকি করতে বলেছেন। পেট্রোল পাম্প বন্ধ হলে কেন পাম্প বন্ধ তার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান ও ডিপোর সঙ্গে তেল সরবরাহের হিসাব ডাবল চেক করতে বলেছেন। তেলের ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিত, জ্বালানি তেলের পাচার বন্ধ ও অধিক মূল্যে যাতে জ্বালানি তেল বিক্রি না করতে পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা এবং অপরাধ সংগঠিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে বলেছেন।