নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন জালকুড়ি এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহাবুদ্দিন জানান, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিষ্ঠুরতাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। শাহাবুদ্দিন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় কমান্ডার আলী হোসেনের নেতৃত্বে বেশ কিছু অভিযানে অংশ নেন।
এ প্রতিবেদককে জালকুড়ি এলাকার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে উপরোক্ত কথা বলেন এই ৭০ বছর বয়সি মুক্তিযুদ্ধেও গেজেটভুক্ত ১২৯ নম্বর সদস্য শাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, কোনো এক দিনের বেলায় মিলিটারিদের দেখে দৌড়ে ধান খেতে গিয়ে লুকিয়ে পড়েন জালকুড়ি এলাকার বাসিন্দা রমজান আলী। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। মিলিটারি তার পিছু নেয় এবং ধান খেতেই তাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। সে ঘটনা এখনো মনে পড়ে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এমন নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতাই আমাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করে। শাহাবুদ্দিন বলেন, জালকুড়ি এলাকায় এক রাতে প্রবেশ করে হানাদার বাহিনী। খবর পেয়ে কমান্ডারের নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধারা একত্রিত হন। সেই দলে আমিও ছিলাম। হানাদারদের তুলনায় আমাদের অস্ত্রশস্ত্র ছিল কম। দু-চারজনের হাতে ভারী অস্ত্র থাকলেও বাকিরা সাধ্যমত বাঁশ, লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।
তবে এলাকার রাস্তাঘাট অপরিচিত হওয়ায় যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর সদস্যরা বেশি সময় টিকতে পারেনি। এক পর্যায়ে তারা পিছু হটে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রত্যাশা সম্পর্কে শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ৫৫ বছর পার হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংরক্ষণ করা, মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও কল্যাণ করা, জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইত্যাদি বিষয়ে নজর দিলে খুশি হব।’ তিনি বিভাজনের বিরোধিতা করে মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্য রক্ষা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বাারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি তারুণ্যের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি নীতি নিয়ে আগ্রসর হওয়ার দাবি জানান এবং প্রত্যেকটি এলাকাকে মাদক, সন্ত্রাস, ছিনতাই, চাঁদাবাজমুক্ত করার বিষয়ে নজর দেওয়ার অনুরোধ জানান।