বাণিজ্য ও জোরপূর্বক শ্রমসংক্রান্ত দুটি পৃথক তদন্তের অংশ হিসেবে শুনানির জন্য বাংলাদেশের কাছে একটি তারিখ চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর)। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের জন্য ওই দপ্তরের সহকারী প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সামনে ঈদুল ফিতরের ছুটি থাকায় বর্তমানে মাত্র তিনটি কার্যদিবস রয়েছে। তাই ছুটি শেষে শুনানির জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হবে।’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানান, সম্ভাব্য শুনানিতে ইউএসটিআর বিভিন্ন শিল্প ও উৎপাদন খাতে বাংলাদেশের উৎপাদনসক্ষমতা, শ্রমিকদের মজুরি প্রদান, শ্রম আইন সংশোধন, রপ্তানিসক্ষমতা, সরকারি ভর্তুকি এবং শ্রমসংক্রান্ত পরিস্থিতি বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাইতে পারে। এ ছাড়া বাংলাদেশে কার্যরত মার্কিন ব্যবসায়ীরা যে অশুল্ক বাধার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন, সেই বিষয়টিও শুনানিতে আলোচনায় আসতে পারে।’ বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘সম্ভাব্য শুনানি সামনে রেখে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। দেশের অবস্থান তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।’ তাঁর মতে বাংলাদেশের অতিরিক্ত উৎপাদনসক্ষমতার অভিযোগ প্রমাণ করা ইউএসটিআরের জন্য সহজ হবে না। কারণ গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে কাজের অর্ডার কমে যাওয়ায় অনেক কারখানা বিশেষ করে তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। রপ্তানি ভর্তুকি দেওয়ার অভিযোগও প্রমাণ করা কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি। কারণ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকার তিন বছর আগে থেকেই রপ্তানি ভর্তুকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার শ্রম আইন সংশোধন করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) পরামর্শ অনুসরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান বলেন, ‘শক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা গেলে বাংলাদেশ এই তদন্ত সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারবে।’
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের স্লিপিং ব্যাগ রপ্তানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলে এবং ইউএসটিআর তদন্ত শুরু করে। তবে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করায় বাংলাদেশ সেই মামলায় জিতেছিল।’ যদিও এই তদন্তের শুনানি সরকার-টু-সরকার পর্যায়ে হবে, তবু দেশের তৈরি পোশাক খাত সরকারকে তথ্য ও প্রমাণ দিয়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত এত বেশি অতিরিক্ত উৎপাদন করে না যে তা যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে কোনো নকল বা মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনকারী পোশাকপণ্যও উৎপাদন করা হয় না।’