বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপারেশনের আগে ইনজেকশন দেওয়ার পরই দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুজন নার্সকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল সকালে হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের নারী ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মৃতরা হলেন সদর উপজেলার শার্শী গ্রামের বাবুল হাওলাদারের স্ত্রী হেলেনা বেগম (৪৮) ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মন্নান তালুকদারের স্ত্রী শেফালী বেগম (৬০)। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, থাইরয়েড সমস্যা নিয়ে ৫ রমজান ভর্তি হন হেলেনা বেগম এবং মুখের ভিতর টিউমার অপসারণ করার জন্য ১৮ রমজান ভর্তি হন শেফালি বেগম। সকালে তাদের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে নার্সরা দুই রোগীকে কয়েকটি করে ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দেওয়ার পাঁচ-সাত মিনিটের মধ্যেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের মৃত্যু হয়।
সেফালী বেগমের মেয়ে খাদিজা জানান, দুই রোগী পাশাপাশি বেডে ছিলেন। প্রথমে তার মাকে ইনেজকশন দেওয়া হয়। তিনি তখন সুস্থই ছিলেন। এরপর অপর রোগীকে ইনেজকশন দেন একই নার্স।
ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণ পরে তার মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং চোখের সামনে তিনি মারা যান। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
হেলেনার ছেলে ইব্রাহিম বলেন, ইনজেকশন পুশ করার পরই মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মারা যান। বিষয়টি আমরা হাসপাতাল প্রশাসনকে জানিয়েছি।
দায়িত্বরত নার্স হেলেন অধিকারী জানান, তিনি নিজে ইনজেকশনের ভায়েল ভাঙেননি। তবে রোগীদের শরীরে ইনজেকশন পুশ করেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্য নার্স মলিনা হালদার দাবি করেন, চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল।
হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, অপারেশনের আগে কিছু অ্যানেসথেটিক ওষুধ অপারেশন থিয়েটারে দেওয়ার কথা থাকলেও সেগুলো ওয়ার্ডেই দেওয়া হয়েছে। ফলে রোগীদের শরীরে জটিল পরিবর্তন ঘটে এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সহায়তা না থাকায় তারা মারা যান। ঘটনাটি দায়িত্বে অবহেলা এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইতোমধ্যে দুই নার্সকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।