দেশে ক্রেডিট কার্ডের ওপর কার্যকর বার্ষিক সুদের হার সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ক্রেডিট কার্ডের সর্বোচ্চ সীমা, গ্রাহক সুরক্ষা, বিলিং প্রক্রিয়া ও জালিয়াতি প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর ক্রেডিট কার্ডের সুদ ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল জারি করা নীতিমালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া অর্থের ওপর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ কার্যকর বার্ষিক সুদ আরোপ করা যাবে। তবে সুদ ধার্য করা হবে কেবল বকেয়া অর্থের ওপর; মোট বিলের ওপর নয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, জামানতবিহীন (আনসিকিউরড) ক্রেডিট কার্ডে একজন গ্রাহকের সর্বোচ্চ সীমা হবে ২০ লাখ টাকা। তবে তরল জামানতের বিপরীতে এ সীমা সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ক্রেডিট কার্ডের মোট সীমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ক্রেডিট কার্ড পেতে হলে গ্রাহকের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হতে হবে। এ ছাড়া বৈধ ই-টিআইএন, পরিষ্কার সিআইবি রিপোর্ট এবং ‘নো ইয়োর কাস্টমার’ নীতিমালা পূরণ করতে হবে। নির্দেশনায় গ্রাহক সুরক্ষার বিষয়েও বেশ কিছু বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতি মাসে গ্রাহককে ক্রেডিট কার্ডের বিল স্টেটমেন্ট প্রদান, বিল পরিশোধের জন্য কমপক্ষে ১৪ দিনের সময় দেওয়া এবং বিল সংক্রান্ত অভিযোগ ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। কোনো গ্রাহক কার্ড হারানোর তথ্য দিলে ব্যাংককে তাৎক্ষণিকভাবে কার্ড ব্লক করতে হবে। কার্ড হারানো বা চুরি হওয়ার পর কোনো অননুমোদিত লেনদেন ঘটলে তা সাত কর্মদিবসের মধ্যে গ্রাহককে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, গ্রাহক চাইলে ক্রেডিট কার্ড বন্ধ করার আবেদন করতে পারবেন এবং কোনো বকেয়া না থাকলে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তা বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গ্রাহকের সুবিধা এবং পয়েন্ট অব সেল অবকাঠামোর বিস্তারের ফলে দেশে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এই প্রবৃদ্ধিকে নিরাপদ ও টেকসই করতে এবং গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষায় নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশে তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে পারবে। তবে বিদেশি মুদ্রায় ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে পারবে কেবল অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক।
নীতিমালায় ক্রেডিট কার্ডকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে-ব্যক্তিগত ক্রেডিট কার্ড, করপোরেট ক্রেডিট কার্ড এবং কো-ব্র্যান্ডেড ক্রেডিট কার্ড। ব্যক্তিগত ক্রেডিট কার্ড ব্যক্তিগত কেনাকাটা ও সেবার জন্য ব্যবহৃত হবে এবং গ্রাহকের আয় ও ক্রেডিট ইতিহাসের ভিত্তিতে সীমা নির্ধারণ করা হবে। করপোরেট কার্ড কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যু করা হয় এবং ব্যবসায়িক ব্যয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে কো-ব্র্যান্ডেড ক্রেডিট কার্ড ব্যাংক ও কোনো প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে চালু করা হয়, যেখানে গ্রাহকরা বিভিন্ন ডিসকাউন্ট বা রিওয়ার্ড সুবিধা পেয়ে থাকেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে ক্রেডিট কার্ড খাতে আর্থিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বাড়বে এবং দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।