পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভার নির্বাচনি প্রচারে এসে ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুতে মমতা ব্যানার্জির সরকারকে ক্রমাগত নিশানা করে চলেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। গতকাল কলকাতায় এসে সংবাদ সম্মেলনে অমিত শাহ বলেন, ‘এ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করার নীতি নেওয়া হবে।’ জবাবে কলকাতায় গতকাল অন্য এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ভাতিজা ও তৃণমূলের সংসদ সদস্য অভিষেক ব্যানার্জি বলেন, ‘আমরা যদি অনুপ্রবেশকারীদের কথা বলি তবে গত দেড় বছর দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুপ্রবেশকারী নাকি শরণার্থী?’ মোদি-অমিত শাহের কাছে অভিষেকের প্রশ্ন-শেখ হাসিনার স্ট্যাটাস কী, কেন্দ্রের তরফ থেকে তা পরিষ্কার করে জানানো হোক।
অভিষেক আরও বলেন, ‘আজ অমিত শাহ স্বীকার করেছেন, বিজেপি যদি বাংলায় ক্ষমতায় আসে তবে বাংলা দিল্লি ও গুজরাট থেকে পরিচালিত হবে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে শাসন করার থেকে গুজরাট থেকে শাসন করা অনেক ভালো। এর অর্থ কলকাতা বাংলাদেশি! বাংলাকে যদি কেউ বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে... সেটা দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেখেন।’ অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, ‘বাংলাকে যদি বাংলাদেশ পরিচালিত করে তবে দিল্লিতে শেখ হাসিনা কী করছেন? উনার (অমিত শাহ) কি কোনো জবাব আছে? দেড় বছর ধরে শেখ হাসিনাকে নরেন্দ্র মোদির সরকার কী কারণে আশ্রয় দিয়ে রেখেছেন? কোন শিল্পপতিকে বাঁচানোর জন্য? শেখ হাসিনার স্ট্যাটাস কী? তিনি অনুপ্রবেশকারী না শরণার্থী? অমিত শাহ জবাব দিতে পারবেন?’