রাজধানীর পাম্পগুলোতে তেল নিতে এখনো ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি তেল সরবরাহ সংকট ও আতঙ্কের কারণে রাজধানীর বেশির ভাগ পেট্রোলপাম্পে অব্যাহত রয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গাড়িচালকরা। গতকাল সকাল থেকেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা যায় প্রতিদিনের মতোই যানবাহনের দীর্ঘ সারি। অনেকে ৩-৪ ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত হয়ে মোটরসাইকেল রেখে রাস্তার পাশে বসে আছেন।
জ্বালানি তেল নিয়ে সংকট পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন রাইড শেয়ার করা মোটরবাইক চালকরা। তারা জানান, বর্তমানে পাম্প থেকে তেল নিতেই তাদের দিনের অর্ধেক সময় চলে যাচ্ছে। এতে তাদের আয় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে বলে জানান।
পাম্পের কর্মকর্তারা বলছেন, ডিপোগুলো থেকে চাহিদা অনুযায়ী পাম্পগুলোকে তেল সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে পাম্পের সামনে থেকে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দূর হচ্ছে না। তেল সংকট আতঙ্কের কারণে অনেকে বাড়তি তেল কিনছেন বলেও তারা জানান।
চালকদের অভিযোগ, সরকার পর্যাপ্ত তেল সরবরাহের কথা বললেও পাম্পগুলোতে বাড়তি সরবরাহ দিচ্ছে না। যার কারণে পাম্পগুলোতে চাপ কমছে না। অনেক পাম্পে ৪-৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল নেওয়া যাচ্ছে না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক তৎপরতার ঘাটতি রয়েছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
ভারত থেকে এসেছে ৮ হাজার টন ডিজেল : বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। ভারত থেকে আসা এ ডিজেল পদ্মা অয়েল পিএলসির পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছেছে।
গতকাল মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন) কাজী মো. রবিউল আলম এ তথ্য জানান। তিনি জানান, গত ৭ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়। গত শুক্রবার মধ্যরাতে পুরো চালান অর্থাৎ ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছায়। বর্তমানে আমদানীকৃত ডিজেল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কাজী মো. রবিউল আলম জানান, ভারত থেকে ডিজেল আমদানি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে আগামী ১৭ এপ্রিল আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির জন্য পাম্পিং করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পদ্মা অয়েল পিএলসির পার্বতীপুর ডিপোর ডেপুটি ম্যানেজার (অপারেশন) মো. আহসান হাবিব চৌধুরী জানান, শুক্রবার মধ্যরাতে ডিপোতে ৮ হাজার ডিজেলের চালান এসেছে। ডিপোতে এখন পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত রয়েছে।
এর আগে ১১ ও ২৩ মার্চ দুই দফায় ৫ হাজার করে মোট ১০ হাজার মেট্রিক টন এবং ১ এপ্রিল আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে আসে। সর্বশেষ চালানসহ চার দফায় মোট ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পাইপলাইন প্রকল্প দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আমদানি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, আসামের নুমালিগড়ে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ২০২১ সাল থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে পরিশোধিত ডিজেল বাংলাদেশে আমদানি করা হচ্ছে।