ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় আজ রবিবার থেকে হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টিকার কার্যক্রম চলবে। এ ছাড়া আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী এই টিকা কার্যক্রম শুরু হবে, ১১ মে পর্যন্ত চলবে। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুরা এই টিকা নিতে পারবে। এর আগে গত ৫ এপ্রিল প্রথম ধাপে দেশের
৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট এলাকায় কার্যক্রম শুরু হয়। এগুলো দেশের ১৮ জেলার আওতাধীন ৩০টি উপজেলায়।
রবিবার সকাল ৮টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠে ‘জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডে তিনটি করে টিকাকেন্দ্র থাকবে। ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৬৮৯ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে ডিএনসিসি। ৬-৯ মাস বয়সি ৪৭ হাজার ৬৬৮ শিশুকে হামের টিকা দেবে ডিএনসিসি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফারিয়া ফয়েজ জানান, ৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার টার্গেট রয়েছে তাদের। এদিকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় এবং অপর শিশুর মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৪৫ শিশুর। আর হামে ২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ৮৮৮ শিশু। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৫৩ শিশু। আর একই সময়ে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮০ জনের। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৬৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সবচেয়ে কম চারজন ভর্তি হয়েছে রংপুর বিভাগে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৪১৩ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১৯৬ জন ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৮ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।
গত ২৮ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা ১৪ হাজার ৩৮৫ জনের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯ হাজার ৪৬৩ জন। এ সময় ২ হাজার ৪৮৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছে ৭ হাজার ২২২ জন।