সৌদি আরব পৌঁছেছে বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট। শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হজ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর রাত ১২টা ২০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি ৩০০১ ফ্লাইটটি ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটি সৌদি আরবের স্থানীয় সময় গতকাল ভোর ৪টা ২০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। গতকাল একে একে মোট ১৪টি ফ্লাইটে ৫ হাজার ৭৫৯ জন হজযাত্রী বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। এর মধ্যে ১২টি জেদ্দা বিমানবন্দরে এবং দুটি মদিনা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ ১৪টি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ছয়টি এবং সৌদি আরবের সাউদিয়া ও ফ্লাইনাস চারটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করে। আজ আরও ১৪টি ফ্লাইটে ৫ হাজার ৭৫৬ জন হজযাত্রীর সৌদি যাওয়ার কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের অভ্যর্থনা জানান সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলওয়ার হোসেন ও কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলাম। হজযাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাদের হাতে রিফ্রেশমেন্ট কিট তুলে দেওয়া হয়। এ সময় অন্যদের মধ্যে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন, সহকারী মৌসুমি হজ অফিসার মো. রুহুল আমিন, জেদ্দা হজ টার্মিনালের হেড অব অপারেশন ইহাহিয়া রাদি ও হাজিদের অভ্যর্থনায় নিয়োজিত সৌদি প্রতিষ্ঠান নুসুক মারহাবার ম্যানেজার রায়েদ বাকশাউন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজ ফ্লাইট-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী ফ্লাইটে গিয়ে হজযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি দেশ ও জাতির জন্য তাদের কাছে দোয়া চান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা প্রত্যেকে আল্লাহর মেহমান। আপনাদের যাদের আল্লাহর ঘরে যাওয়ার তৌফিক হয়েছে, তারা যদি হাত তুলে দোয়া করেন, আল্লাহ আপনাদের দোয়া কবুল করবেন। আল্লাহর মেহমানদের দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য দোয়া করবেন যেন আল্লাহ তৌফিক দেন, আমাদের সামনে যত সমস্যা-বিপদ আছে, সেগুলো যেন আমরা মোকাবিলা করতে পারি। দেশের মানুষের জন্য নেওয়া উদ্যোগগুলো যেন সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি। তিনি আগামী বছর থেকে সুযোগসুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি হজের খরচ কমানোর আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার গঠনের আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই হজ ব্যবস্থার বেশির ভাগ কাজগুলো হয়ে গিয়েছিল। তারপরও যতটুকু সম্ভব আমরা চেষ্টা করেছি, অন্তত ১২ হাজার টাকা কমানোর চেষ্টা করেছি। আগামী বছর যাতে আরও খরচ কমাতে পারি, কম খরচে যাতে হজে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারি সেজন্য দোয়া করবেন।
এ সময় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি, বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার এনডিসিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী আশকোনার হজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং হজযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন।
রাত জেগে ক্যাম্পে অবস্থান ধর্মমন্ত্রীর : হজযাত্রী সেবা কাজকর্ম মনিটরিংয়ে গভীর রাতে হজ ক্যাম্পে যান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় তিনি রাজধানীর আশকোনায় হজ ক্যাম্পে প্রবেশ করেন। মন্ত্রী হজযাত্রীদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর ডেস্কে যান এবং তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন। মন্ত্রী ইমিগ্রেশন এরিয়াতে গিয়ে হজযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হজ ক্যাম্পের সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের কাছে জানতে চান। তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়েও খোঁজখবর নেন তিনি।