রাজধানীর পল্লবীতে আবাসিক এলাকায় ঢুকতে না দেওয়ায় দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী সালাহউদ্দিনকে (৫৫) পিটিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তার হওয়া আসামি অটোরিকশাচালক সাগর শেখ বাবু (৩৭)। গতকাল দুপুরে মিরপুরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।
পিবিআই জানায়, সালাহউদ্দিন ভোলা জেলার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ঢাকার রূপনগর থানার দুয়ারীপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ‘মেরিট সিকিউরিটি সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেডের’ নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ১৩ এপ্রিল দুপুরে রাজধানীর উত্তর পল্লবী আবাসিক এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন সাগর শেখ বাবু। পূর্বানুমতি ছাড়া প্রবেশে বাধা দেন কর্তব্যরত নিরাপত্তা প্রহরী সালাহউদ্দিন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সাগর শেখ বাবু নিরাপত্তাকর্মী সালাহউদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মারেন, বিশেষ করে মাথা ও মুখমণ্ডলে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে যান এবং অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কলাবাগানের গ্রিন রোডের ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন বিকাল ৩টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় পল্লবী থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহতের স্ত্রী হালিমা বেগম অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর। পিবিআই আরও জানায়, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন ঘাতক হিসেবে সাগর শেখ বাবুকে শনাক্ত করা হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে গতকাল ভোরে মিরপুর সেকশন-১১ এলাকার একটি রিকশা গ্যারেজের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জব্দ করা হয় ব্যবহৃত অটোরিকশা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে সাগর শেখ বাবু ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। তারা বলছে, তর্ক-বিতর্কের জেরেই ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি নিরাপত্তা প্রহরী সালাহউদ্দিনকে মারধর করেন, যা পরবর্তীতে তার মৃত্যুর কারণ হয়।