ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটির বিক্রেতা মাজেদুল হক ওরফে হেলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, চট্টগ্রামে ‘হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোং’ নামে অস্ত্র বিক্রির একটি দোকান আছে তাঁর। ২০১৮ সালে অস্ত্রের লাইসেন্স ছাড়াই ১০-১২টি অস্ত্র বিক্রি করেন। এর মধ্যে হাদি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটিও ছিল।
গতকাল তিন দিনের রিমান্ড শেষে হেলালকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান। এর আগে ১৫ এপ্রিল আদালত হেলালকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। ১৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের চকবাজার থানার হারেছ শাহ মাজার লেন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছেন, ঢাকার পল্টনের এম আই এইচ আর্মস কোম্পানি আমদানি করে হাদি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি। পরে তা চকবাজারের অস্ত্রেও দোকান ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্সের কাছে ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর বিক্রি করে দেয়। সবশেষ ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্স ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের টেরিবাজারের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোম্পানির কাছে পিস্তলটি বিক্রি করে। ২০১৮ সালে অস্ত্র ব্যবসায়ী মাজেদুল হক হেলাল মোটা অঙ্কের অর্থের লোভে ১২টি অস্ত্র বিক্রি করে দেন। হাত ঘুওে সেই অস্ত্র হাদি হত্যায় ব্যবহৃত হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে আততায়ীর গুলিতে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান হাদি। সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।