ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য নির্ধারণে চূড়ান্ত করতে যাচাইবাচাই করছে বিএনপি। শুক্র ও শনিবার রাজধানীর গুলশানে ১০ সাংগঠনিক বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয় দলটি। এ সময় বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে নিজের ত্যাগ ও অবদানের কথা তুলে ধরেন নেত্রীরা। তাঁরা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার অঙ্গীকারও করেন।
সাক্ষাৎকারের শেষ দিনে গতকাল চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন প্রায় সাড়ে ৪০০ মনোনয়নপ্রত্যাশী সাক্ষাতে অংশ নেন। ঢাকা বিভাগের ঢাকা জেলা দিয়ে সাক্ষাৎকার শুরু হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দিয়ে শেষ হয়। এর আগে শুক্রবার রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের ৩৭৮ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, ৩৬ আসনের বিপরীতে ৮ শতাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীকে পৃথকভাবে মনোনয়ন বোর্ডে ডাকা হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান তাঁদের প্রত্যেকের কাছে মনোনয়ন পেলে কী করবেন আবার না পেলে কী করবেন এমনটা জানতে চান। তবে বেশির ভাগ নেত্রীই দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠকে উচ্চশিক্ষিত ও ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়নের আশ্বাস দেয় পার্লামেন্টারি মনোনয়ন বোর্ড।
অন্তত ১০ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল প্রার্থীদের বায়োডাটা যাচাইবাচাইয়ের পাশাপাশি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী জানান, বিগত আন্দোলনে তাঁরা রাজপথে ছিলেন। বিএনপির পক্ষে জনমত গঠন করেছেন। তাই তাঁরা মনোনয়ন পেতে আশাবাদী। নেত্রকোনার ড. আরিফা জেসমিন নাহিন জানান, বিগত সময়ে তাঁকে অনেক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এবার দল মূল্যায়ন করবে বলে আশা তাঁর।