ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর শুক্রবার দুপুরে স্কুল শিক্ষার্থী নিশাতের (৬) বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর হত্যারহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিবেশী ইসহাক মিয়া জানান, স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার বিষয়টি মাকে বলে দেওয়ার কারণে নিশাতকে শ্বাসরোধে খুন করা হয়। এর আগে সে নিশাতকে নিয়ে পার্কসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। হত্যার পর বাড়িতে লাশ রাখে। এদিকে ঘটনা সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে ইসহাক মিয়াকে গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়। এ সময় ঘটনার সঙ্গে ইসহাক মিয়ার জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারে এলাকার লোকজন। এক পর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় ও ইসহাকের ফাঁসির দাবিতে সেøাগান দেওয়া শুরু হয়। বিকালে উত্তেজিত জনতা ইসহাকের বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেয়।
হত্যাকাণ্ডের শিকার নিশাত জাহান নামে সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. আবু সাদেক মিয়ার মেয়ে ও স্থানীয় একটি কিন্ডার গার্টেনের নার্সারি বিভাগের শিক্ষার্থী। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল তার লাশ দাফন করা হয়। এর আগে শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি খোলা জায়গা থেকে নিশাতের লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে নিশাত চিপস কেনার কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় সদর থানায় সাধারণ ডায়রি করা হয়। শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় এক যুবক মোরগ ধরতে গিয়ে নিশাতের বাড়ির দূরে একটি বস্তার ভিতর লাশ দেখতে পায়। বিষয়টি নিশাতের পরিবারকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে নিশাতের পরিহিত কাপড় দেখে লাশ শনাক্ত করে। পিবিআই-এর পুলিশ সুপার সচীন চাকমা বলেন, মনে হচ্ছে ইসহাক একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এরপরও যদি কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।