বগুড়ার ঐতিহাসিক নবাববাড়ির পর এবার বিক্রি হলো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সাতানী জমিদারবাড়ি। বগুড়ার নগর উন্নয়নের মধ্যেও এ বাড়িটি দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী হয়ে। ১২৭৮ বঙ্গাব্দে নির্মিত বাড়িটি মূলত মুন্সি আবদুল হাফিজ বিবাহ সূত্রে পেয়েছিলেন। বিবাহ সূত্রে প্রাপ্ত স্ত্রীর সম্পদের সাত আনা অংশের মালিকানা থেকে বাড়িটির নাম হয় ‘সাতানী বাড়ি’। এটি বগুড়ার প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী ও জমিদার আমলের অন্যতম নিদর্শন। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এবং আধুনিকায়নের চাপে বাড়িটি অস্তিত্ব বিলুপ্তির পথে। বাড়িটি দখলে নিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সাতানী বাড়িটির মালিক ছিলেন প্রয়াত মুন্সি আবদুল হাফিজের বংশধর এরশাদ সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রী মামদুদুর রহমান চৌধুরী। তাঁর মৃত্যুর পর ওয়ারিশরা বাড়িটি দখলে রাখেন। সম্প্রতি বাড়িটি গোপনে বিক্রি হয়ে গেছে। বিলম্বে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ১৪ এপ্রিল ছুটির দিনে কমিশন করে দলিল সম্পাদন করা হয়, যাতে আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে। ক্রেতা ও বিক্রেতা দুই পক্ষই খুব গোপনে জমি দলিলের কাজটি সম্পন্ন করেছেন। বগুড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বদলে শাজাহানপুর উপজেলার মুহুরিকে দিয়ে দলিল লেখার কাজ করানো হয়। মোট ৫৭ শতাংশ জমি ৪৩ কোটি টাকায় বিক্রি হলেও সরকারি মৌজামূল্য অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৫ কোটি। সূত্রমতে সাতানী জমিদারবাড়ির একাংশের মালিক বাহলুল চৌধুরী, বেহরুজ চৌধুরী, শাহীন আফরোজ চৌধুরীর দেওয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নিমূলে এটি বিক্রি করেছেন নুমান হেফজুর রহমান চৌধুরী। আর মহামূল্যবান এ বাড়িটি কিনেছে ২২৪ জনের একটি সিন্ডিকেট। যারা এ জমিতে বহুতলবিশিষ্ট অত্যাধুনিক ভবন নির্মাণ করবে। ২২৪ জনের এই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মধ্যে রয়েছেন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তা। ঐতিহ্যবাহী এ বাড়িটি ভেঙে তৈরি করা হবে আধুনিক ২০ তলা ভবন। যার চার তলা পর্যন্ত থাকবে অত্যাধুনিক শপিং মল, ২০ তলার ওপরে মসজিদ, হেলিপ্যাড ও ব্যায়ামাগার। ভবনের নিচতলায় দ্বিতলবিশিষ্ট গাড়ি পার্কিং ও নিরাপত্তাপ্রহরীর বাসভবন। এ ছাড়া পঞ্চম থেকে ১৯ তলা পর্যন্ত করা হবে আবাসিক ফ্ল্যাট।
বগুড়া সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযানের সাধারণ সম্পাদক কে জি ফারুক জানান, ‘বগুড়ার ঐতিহাসিক নবাববাড়ির পর এবার কালের সাক্ষী সাতানী জমিদারবাড়িটি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এতে বগুড়ার আগামী প্রজন্ম এ দুই বাড়ির ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হবে। বাড়ি দুটিকে সরকার দখলে নিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’