ফরিদপুরের নগরকান্দায় গুজব ছড়িয়ে পয়লা মে রাতে পিটিয়ে হত্যা করা ট্রাকচালক মো. হান্নান শেখের দুই বছরের এতিম শিশু কন্যা মুসলিমার পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সকালে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুল হাসান নিহতের বাড়িতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা পেয়ে তিনি এখানে এসেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে শিশুটির সার্বিক খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তার লেখাপড়া, চিকিৎসা ও লালন-পালনসহ যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে। এ সময় শিশুটির দাদা-দাদির হাতে নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রী ও শিশুটির হাতে খেলনা তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মানস বোস, সমাজসেবা কর্মকর্তা কারিজুল ইসলাম, সাতৈর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাফিউল আলম মিন্টুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। শিশু মুসলিমার দায়িত্ব নেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শিশুটির দাদা শাহিদ শেখ ও দাদি নার্গিস বেগম বলেন, আমরা প্রাণভরে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাঁকে দীর্ঘ হায়াত দান করেন এবং তিনি ভালোভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী এতিম ও অসহায় শিশুটির দায়িত্ব নেওয়ায় খুশি গ্রামবাসীও।
জানা যায়, গত পয়লা মে রাতে নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া গ্রামে ট্রাকচাপায় ‘অগণিত মানুষ মেরে ফেলা হয়েছে’ এমন মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে গনপিটুিন দিয়ে হত্যা করা হয় ট্রাকচালক মো. হান্নান শেখকে। নিহত হান্নান শেখ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মুসলিমা নামের তার দুই বছর বয়সি একটি শিশু কন্যা রয়েছে। মুসলিমার জন্মের ১৭ দিনের মাথায় বাবাকে ডিভোর্স দিয়ে তার মা অন্যত্র চলে যায়। এরপর মা হারা শিশু মুসলিমা দাদা-দাদি ও বাবার কাছেই থাকত। বাবাকে হারানোর পর সে একেবারেই এতিম হয়ে পড়ে। শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় পড়ে তার দাদা-দাদি। গণমাধ্যমে শিশুটিকে নিয়ে সংবাদ প্রচার হলে নজড়ে পড়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।