দখল, দূষণ আর নগরায়ণের ফলে মৃতপ্রায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বগডুমারি খাল। এক সময় যে খালটিতে ছিল প্রবল স্রোত, বর্তমানে সেই খালটি সরু হতে হতে ড্রেনের মতো রূপ নিয়েছে। এ ছাড়া ময়লা-আবর্জনার কারণে খালটি মশাবাহিত রোগের আবাসস্থল হিসেবে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, বগডুমারি খালটি বর্তমানে কলকারখানার কেমিক্যাল মিশ্রিত বিষাক্ত পানি ও প্লাস্টিক বর্জ্যরে কারণে খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এক সময়ের এ প্রশস্ত খালটি বর্তমানে কোথাও কোথাও দখলের কারণে একেবারেই সরু হয়ে পড়েছে। অথচ এ খালটিতে এক সময় নৌকার যাতায়াত ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন প্রধান বলেন, বগডুমারি অনেক পুরোনো খাল। এক সময় খালটিতে নৌকা চলাচল করত। পানি এতটাই স্বচ্ছ ছিল যে পান করা যেত। সেই সঙ্গে প্রচুর মাছ ধরা পড়ত। অথচ বর্তমানে দুর্গন্ধের কারণে খালের কাছে যাওয়া যায় না। এ ছাড়া খালটিতে গোসলের জন্য ঘাটলা ছিল। বর্তমানে সেই ঘাটলারও কোনো অস্তিত্ব নেই।
তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো জায়গায় খালটিকে ড্রেনের মতো করে ফেলেছে। অইেশ দিন ধরে খালটি সংস্কার করা হয় না। খালটি সংস্কার করা না হলে সদর উপজেলা কার্যালয়ের আশপাশ এলাকা একসময় পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে। তাই এই খালটির সংস্কারের প্রয়োজন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, ফতুল্লা এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে কালিয়ানি খালের প্রায় ৫ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য ইতোমধ্যে সরকারি অনুমোদন পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু হবে। সদর উপজেলার তিনটি খালের প্রায় ৪০০ মিটার এলাকায় প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই পর্যায়ক্রমে প্রায় সাড়ে আট কিলোমিটার খাল পরিষ্কার ও পুনঃখনন সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে বগডুমারি খালটিও রয়েছে।