মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে দেখা দেওয়া জ্বালানি সংকটের কারণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ অনেক মন্ত্রীর গাড়ি বহরের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর আগে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে সংযম হওয়ার বার্তা দেন। জ্বালানি তেল, গ্যাসের খরচ কমানো, এমনকি সোনার গয়না কেনার ক্ষেত্রেও রাশ টানার কথা বলেছিলেন মোদি। বিদেশভ্রমণও আপাতত স্থগিত রাখতে বলেছেন। দেশবাসীকে মিতব্যয়ী হওয়ার বার্তা দেওয়ার পর এবার নিজে থেকেই সেই নিয়ম পালন শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত বিশাল গাড়ি বহরের সংখ্যা এক ধাক্কায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ‘স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ’ (এসপিজি) ইতোমধ্যে এ নির্দেশ পালন শুরু করে দিয়েছে। এ ছাড়া পেট্রোল-ডিজেলের বদলে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর পর অন্য মন্ত্রী, মন্ত্রণালয় এবং দপ্তরের ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যাও কমানো হচ্ছে। আপাতত বড় আকারের সরকারি অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা হবে। এ সিদ্ধান্তের ফলে গতকাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের গাড়ি বহরে পাঁচটি গাড়ি দেখা গেছে, যেখানে অন্য সময় ১০ থেকে ১১টি গাড়ি থাকত। এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আতাওয়ালে, দিল্লির ক্যাবিনেট মিনিস্টার কপিল মিশ্রকে মেট্রোয় চড়ে অফিসে আসতে দেখা গেছে।
জ্বালানিসংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পদক্ষেপ নিয়েছে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের সরকারও। রাজ্য সরকারের তরফে সাপ্তাহিক ‘নো ভেহিকল ডে’ ঘোষণা করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে মন্ত্রী থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য, বিধায়ক, অন্য জনপ্রতিনিধিদের সপ্তাহে নির্দিষ্ট এক দিন বাস-ট্রেন-মেট্রোর মতো গণপরিবহনে যাতায়াত করতে হবে। তাঁরা নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে ব্যবহার করা যাবে ইলেকট্রিক গাড়ি। জোর দেওয়া হয়েছে সাইক্লিং এবং কার পুলিংয়ের ওপরে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিজেও গাড়ি বহরের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। অন্যান্য মন্ত্রী এবং সচিবের গাড়ি বহরের সংখ্যাও ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তের পর পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও তাঁর গাড়ি বহরের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন। একই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজস্থান, বিহার, দিল্লি ও মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীরাও। মহারাষ্ট্র সরকারও মন্ত্রিসভার সদস্যদের ভার্চুয়াল মিটিংয়ের ওপর জোর দিতে বলেছেন। এমনকি কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল সফর বাতিল করেছেন মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী আশিস শেহলার। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলের গাড়ি বহরে মাত্র তিনটি গাড়ি ছিল। রাজ্যটির উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংভি তাঁর আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফল বাতিল করেছেন। আবার রাজ্যের মধ্যেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হেলিকপ্টার পরিহার করার কথা ঘোষণা করেছেন গুজরাটের রাজ্যপাল আচার্য দেবরথ। পরিবর্তে গণপরিবহনে যাতায়াতের কথা জানিয়েছেন তিনি।