একসময় মধ্যপ্রাচ্যের মরু অঞ্চলের প্রাণী হিসেবে পরিচিত ছিল দুম্বা। তবে সময়ের পরিবর্তনে এখন বাংলাদেশেও বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ প্রাণীর খামার। ঢাকার অদূরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরে নোয়াদ্দা এলাকায় গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ দুম্বার খামার পপুলার এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্ম। জানা যায়, ২০২০ সালে হাজী উজ্জ্বল ইসলাম তিনটি তুর্কি দুম্বা দিয়ে এই খামারটির যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে এখানে বিভিন্ন জাতের বিপুল সংখ্যক দুম্বা, গাড়ল ও ভেড়া রয়েছে। খামারটি ঘিরে স্থানীয় খামারিদের মাঝেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই এখান থেকে দুম্বা সংগ্রহ করে প্রজনন ও বাণিজ্যিক খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারটিতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন এ খামারে। খামারের ম্যানেজার হাফিজুর ইসলাম হাফিজ জানান, দুম্বা পালনে এখন আগের তুলনায় মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদ সামনে এলে চাহিদা আরও বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, এই খামারে থাকা দুম্বাগুলোর দাম আকার ও জাতভেদে নির্ধারণ করা হয়। সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় প্রতিটি দুম্বা। তিনি আরও জানান, খামারে ৪০০-এর অধিক দুম্বা রয়েছে। দুম্বাগুলোকে প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো হয়। খাদ্য তালিকায় রয়েছে গমের ভুসি, ডাবলি ভুসি, ছোলার ভুসি ও ঘাস। নিয়মিত পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার কারণে প্রাণীগুলো সুস্থ ও দ্রুত বেড়ে ওঠে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কার্যকর উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশে দুম্বা পালন আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দর্শনার্থী আলম বলেন, দুম্বার কথা এতদিন শুধু শুনেছি, ভিডিওতে দেখেছি। এই প্রথম সামনে থেকে দেখার সুযোগ হলো। কেরানীগঞ্জে এত বড় দুম্বার খামার গড়ে উঠেছে, এটা সত্যিই আনন্দের। দেখে মনে হচ্ছে এটি বেশ লাভজনক একটি খাত। খামারের শ্রমিক রিয়াজ বলেন, প্রায় ছয় বছর ধরে এখানে কাজ করছি। এখানে আসার আগে কখনো দুম্বা দেখিনি। এখন নিজ হাতে এই মরুর প্রাণীর যত্ন নিই, যা খুবই ভালো লাগে। ঈদের কারণে এখন আমাদের ব্যস্ততা অনেক বেশি। প্রতিদিনই ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা আসছেন। তিনি জানান, এখানে ৩৭ জন শ্রমিক কাজ করছি। দুম্বা ছাড়াও খামারটিতে বিভিন্ন প্রজাতির ভেড়া, গাড়ল ও অন্যান্য পশু রয়েছে। প্রতিদিন দুম্বাগুলোকে নেপিয়ার ঘাস, গমের ভুসি ও বুটের ছোলা খাওয়ানো হয়। পাশাপাশি নিয়মিত গোসল ও পরিচর্যার ব্যবস্থাও করা হয়। স্থানীয়রা বলছেন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে এ ধরনের ব্যতিক্রমী খামার গড়ে ওঠায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করছে দুম্বা পালন। কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার বেগ জানান, দুম্বা মূলত গ্রীষ্মপ্রধান ও শুষ্ক অঞ্চলের প্রাণী হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের আবহাওয়াতেও এটি ভালোভাবে মানিয়ে নিচ্ছে। দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে দুম্বা পালন এখন আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতারা এসব দুম্বা কিনতে আসছেন।