বৈশ্বিক সংকটের কারণে সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যে চলছে অচলাবস্থা। এর ফলে সৃষ্ট আর্থিক সংকটের কারণে সরকারের রাজস্ব আদায় কমেছে আশঙ্কাজনকভাবে। যার ফলে অর্থবছরের ৯ মাসে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। সামনে অন্তত আরও দুই বছর সরকারের রাজস্ব খাতে এমন অবস্থাই চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থ বিভাগের সূত্রগুলো বলছে আসছে বছরের বাজেটে ঘাটতি থাকবে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের এই ঘাটতি অর্থায়নে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎসকে চাপমুক্ত রাখার পরিকল্পনা করছে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান চাঙা করতে। এজন্য ঘাটতি অর্থায়নে সরকার বৈদেশিক খাতকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বাজেট সহায়তার জন্য বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) শরণাপন্ন হয়েছে। সংস্থাগুলোর সঙ্গে এই ইস্যুতে ইতিমধ্যে বৈঠকও করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই তিন উন্নয়ন সহযোগীর কাছ থেকে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সহায়তা হিসেবে ৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। অর্থবিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গত এপ্রিলে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক, আইএমএফের বসন্তকালীন সভায়ও এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ওই সভার সাইড লাইনে অর্থমন্ত্রী উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। সে বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান ৪ দশমিক ৭ ঋণ কর্মসূচির বাইরে আরও অন্তত ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছে আইএমএফ। বিশ্বব্যাংক থেকে অন্তত ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া গত রবিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী। সংস্থাটি আগামী বছর অন্তত ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থবিভাগের একটি সূত্র। এ প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) একজন পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নেগোসিয়েশন করা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। মাত্র তিন মাসের মধ্যে সরকার উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ককে একটা পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছে। ফলে আগামী বছর বাজেট সহায়তা পাওয়ার মতো অনেক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। অর্থবিভাগ সূত্র জানায়, ইরান-ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে নিয়মিত বাজেট সহায়তার বাইরেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক অতিরিক্ত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। একই রকম আশ্বাস দিয়েছে এডিবিও। এসব সংস্থার কাছ থেকে আগামী জুনের মধ্যে অন্তত ২ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার প্রত্যাশা করছে সরকার। তবে আইএমএফের সঙ্গে চলমান ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের নিয়মতি ঋণ কর্মসূচির ষষ্ঠ ও সপ্তম কিস্তির অর্থ পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে সরকার। নতুন বাজেটে এই ঋণের শর্তগুলোর প্রতিফল মূল্যায়ন করবে আইএমএফ। এরপর তা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে ঋণের কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে। তবে এর বাইরে বাজেট সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে সংস্থাটি। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন পুরো অর্থনীতিটাই একটা ঘাটতির মধ্যে আছে। তার ওপর যোগ হয়েছে বৈশ্বিক সংকট। আমরা আমাদের অর্থনীতির সংকটগুলো বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবির সঙ্গে আলোচনা করেছি। এই সংকট মোকাবিলায় তারা আমাদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। জানা গেছে, গত মাসে উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত এডিবির বার্ষিক সভায় অংশ নেন অর্থমন্ত্রী। সে সভায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। পাশাপাশি প্রকল্প সহায়তা হিসেবে আরও ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।