প্রতি ভরি স্বর্ণালংকার ও প্রতি ক্যারেট ডায়মন্ডে ২ হাজার টাকা সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, কেনার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি ও উৎসে ১ শতাংশ আয়কর নির্ধারণ করলে এ খাত থেকে ১৮ গুণ রাজস্ব আদায় বাড়বে বলে রূপরেখা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের কাছে লেখা এক চিঠিতে এ রূপরেখা দেন বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান।
জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুয়েলারি খাত থেকে সরকার ১৩৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছিল। বাজুস বলছে, কাঠামো পরিবর্তন করলে আদায় বেড়ে পর্যায়ক্রমে পঞ্চম বছরে ২ হাজার ৪২০ কোটি টাকায় দাঁড়াবে, যা বর্তমানের তুলনায় ১৮ গুণ বেশি। এ ছাড়া ব্যবসায়ীরা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে কর দেবেন এবং দেশের জুয়েলারিশিল্প পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক ও রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তরিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। সংগঠনটি তাদের পাঁচ বছরের রূপরেখায় বলছে, প্রথম বছরে সাড়ে ৬ হাজার প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনা যাবে। এতে আদায় হবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় বছরে ভ্যাট আদায় বেড়ে দাঁড়াবে ৮০০ কোটি টাকা। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান বেড়ে দাঁড়াবে ১০ হাজারে। তৃতীয় বছরে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হবে ১৫ হাজার। এ সময় আদায় হবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। চতুর্থ বছরে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান বেড়ে হবে ১৯ হাজার। ভ্যাট আদায় বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া পঞ্চম বছরে ভ্যাট আদায় বেড়ে দাঁড়াবে ২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান বেড়ে দাঁড়াবে ২২ হাজার। বাজুস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ৮ হাজার। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ প্রতিষ্ঠান প্রকৃত লেনদেনের ভিত্তিতে ভ্যাট দেয়। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো আঞ্চলিক ভ্যাট অফিসের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারিত ভ্যাট দেয়, যা প্রকৃত ব্যবসায়িক লেনদেন ও বাজার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংগঠনটি বিশ্বাস করে, বর্তমানে শতাংশভিত্তিক ভ্যাটব্যবস্থা জটিল, অস্বচ্ছ ও বাজারমূল্যের তারতম্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় অধিকাংশ ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসায়ী ভ্যাটের আওতায় আসতে চান না। অন্যদিকে সুনির্দিষ্ট ভ্যাটব্যবস্থা চালু করা হলে ভ্যাট হিসাব সহজ হবে। ইনভয়েসভিত্তিক বিক্রি বাড়বে, ভ্যাট ফাঁকি কমবে ও ধাপে ধাপে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আসবে।