ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে ঘরে ঘরে শুরু হয় ব্যস্ততা। কেউ টেবিল সাজাচ্ছেন, কেউ সময় দেখছেন, আবার কেউ পরিকল্পনা করছেন বাইরে গিয়ে ইফতার করার। এই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে এখন যুক্ত হয়েছে অনলাইন কনটেন্টও। কোন খাবার সহজে তৈরি করা যায়, কোথায় ভালো ইফতার পাওয়া যাবে কিংবা পরিবারের সঙ্গে কোথায় খাওয়া যায়, এমন নানা তথ্য জানতে অনেকেই এখন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফুড ভ্লগারদের অনুসরণ করছেন।
রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক কনটেন্ট নির্মাতা সহজ রেসিপি, রেস্টুরেন্ট রিভিউ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরছেন। তাদের ভিডিওতে কখনো দেখা যায় রমজানের বিভিন্ন খাবারের রেসিপি, আবার কখনো রেস্টুরেন্টের ইফতার আয়োজনের অভিজ্ঞতা।
ব্যস্ত সময়ে ঘরে বসে কীভাবে দ্রুত ইফতার তৈরি করা যায়, কিংবা বিদেশে থেকেও কীভাবে দেশীয় সেহরির খাবার রান্না করা সম্ভব, এমন নানা বিষয় নিয়েই তারা ভিডিও তৈরি করেন।
টিকটকে অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটরই দর্শকদের জানাচ্ছেন কোথায় ভালো খাবারের খোঁজ পাওয়া যাবে। তার ভিডিওতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ইফতার প্ল্যাটার ও সেহরির আয়োজন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ছোট খাবারের দোকান থেকে শুরু করে পাঁচতারকা হোটেলের বুফে, সব ধরনের খাবারের রিভিউই দেখা যায় সেখানে। ব্যস্ত শহরের অনেক মানুষের জন্য এমন ভিডিও সময়, টাকা এবং পরিশ্রম বাঁচাতেও সহায়তা করছে।
কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবার শুধু খাবার বা রেস্টুরেন্ট নিয়েই কথা বলেন না। তারা রমজানে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের বিভিন্ন মুহূর্তও তুলে ধরেন। ফলে দর্শকরা শুধু খাবার নয়, রমজানের পরিবেশ ও অভিজ্ঞতার সঙ্গেও পরিচিত হতে পারেন।
রমজানে তেলে ভাজা নানা খাবার বেশি খাওয়ার কারণে অনেক সময় স্বাস্থ্যের বিষয়টিও সামনে আসে। এ কারণে কিছু কনটেন্ট নির্মাতা স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়েও কথা বলেন।
ভিডিওগুলোতে খাবারের অভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং পরিবারের যত্ন নেওয়ার মতো বিষয় তুলে ধরা হয়। কনটেন্ট ক্রিয়েটর সিমরা সহজ কিছু পরামর্শও দেন। যেমন কম ভাজা খাবার খাওয়া, বেশি ফল খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা।
এ ছাড়া বাচ্চারা বেশি মিষ্টি খেতে চাইলে কী করা উচিত, কীভাবে নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস তৈরি করা যায় কিংবা স্বাস্থ্যকর খাবার কীভাবে প্রস্তুত করা যায়, এসব বিষয় নিয়েও তিনি কথা বলেন।
এভাবে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা রমজানের নানা দিক ডিজিটাল পরিসরে তুলে ধরছেন। নতুন ধারণা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে রমজান মাসের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারাও ধরে রাখতে ভূমিকা রাখছেন।
বিডি প্রতিদিন/আশিক