মেট্রোরেলকে যোগাযোগ ব্যবস্থার ‘ব্যাকবোন’ হিসেবে ধরে ভবিষ্যতে জনবহুল এলাকায় মনোরেল চালুর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানালেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সরকার রাজধানীতে মনোরেল, মেট্রোরেল ও বাস—এই তিন খাতকে গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
রবিবার (৮ মার্চ) রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয় মেট্রো স্টেশন থেকে মেট্রোরেলে যাত্রা করে দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল ডিপো পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে মেট্রোরেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেল একটি সফল ও যাতায়াতবান্ধব প্রকল্প হিসেবে ইতোমধ্যে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। এই সাফল্যের পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, জনগণের অর্থের অপচয় রোধ করে এবং প্রকল্পের গুণগত মানের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস না করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। নির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চুক্তির ন্যায্যতা, ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং ব্যয় বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় ভবিষ্যতে যোগাযোগ খাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে জনগণের জন্য কম সময়ে, আরামদায়ক ও মনোরম পরিবেশে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা যাবে।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মধ্যে দ্রুত ও কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ এসব প্রকল্পের সুফল পায়।
তিনি আরও বলেন, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সর্বাধুনিক ও যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। এসময় মেট্রোরেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিডি প্রতিদিন/কামাল