ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়পুরের একটি পেট্রলপাম্প। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রায়পুরের উরলা এলাকার কর্মা চকের কাছে সংগীতা ফুয়েলস নামক একটি পাম্পে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
জানা গেছে, দুই যুবক মোটরসাইকেলে তেল নিতে এসে সেখানে ধূমপানের চেষ্টা করলে পাম্পের এক কর্মী তাতে বাধা দেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে বাইকের পেছনে বসে থাকা যুবকটি সরাসরি জ্বলন্ত লাইটারটি খোলা ফুয়েল ট্যাংকের ভেতরে ছুড়ে মারেন। মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে বাইক এবং পাম্পের নজেলে। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া এই হাড়হিম করা দৃশ্যটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, রাত পৌনে ৮টা নাগাদ ধর্মেন্দ্র সিং ও ইমরান কুরেশি নামের দুই যুবক পাম্পে তেল নিতে আসেন। তেল ভরার সময় ধর্মেন্দ্র বাইক থেকে নেমে সিগারেট ধরানোর চেষ্টা করলে পাম্পকর্মী তাকে সতর্ক করেন। সতর্কবার্তায় কর্ণপাত না করে উল্টো রাগের মাথায় ধর্মেন্দ্র লাইটারটি জ্বালিয়ে সরাসরি তেলের ট্যাংকে ফেলে দেন। আগুনের শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উপস্থিত গ্রাহক ও কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে এদিক-ওদিক ছুটতে থাকেন। তবে পাম্পের জনৈক কর্মীর উপস্থিত বুদ্ধিতে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তিনি দ্রুত মেইন সাপ্লাই বন্ধ করে দিয়ে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সাহায্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনের হলকায় দুই অভিযুক্ত যুবকও সামান্য দগ্ধ হন।
আগুন নেভানোর পরপরই অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করলে পাম্পের কর্মীরা তাদের ধরে ফেলেন এবং পুলিশে খবর দেন।
উরলা থানার পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বীরগাঁওয়ের বাসিন্দা ধর্মেন্দ্র সিং এবং এএইচপি কলোনির ইমরান কুরেশিকে গ্রেফতার করেছে। তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও লাইটারটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
উরলা থানার পরিদর্শক রোহিত মাহেলকর জানিয়েছেন, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং অগ্নিসংযোগের চেষ্টার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি