বিভিন্ন অপরাধে মালদ্বীপের কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত প্রবাসী বাংলাদেশি বন্দি আছেন ৫০ জনের বেশি। এই বন্দিদের দেশে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে কারাবন্দি স্থানান্তর চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বাংলাদেশ হাইকমিশন।
সমঝোতা স্মারক দ্রুত সম্পাদনের লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার মালদ্বীপের কারেকশনাল সার্ভিসের সদর দফতরে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম ও মালদ্বীপের কারা কমিশনার হাসান জারীর।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়, যার মধ্যে বাংলাদেশ–মালদ্বীপ কারাবন্দি স্থানান্তর সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক দ্রুত সম্পাদন ও বাস্তবায়নের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।
বৈঠকের শুরুতে হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ এবং মালদ্বীপের সম্পর্ককে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বন্ধনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন দেশটির কারা কমিশনার। একইসঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে হাইকমিশনার মালদ্বীপের কারাগারগুলোতে আটক প্রবাসী বাংলাদেশিদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন এবং এই সমঝোতা চুক্তি দু’দেশের জন্য মানবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
প্রস্তাবিত এ চুক্তি কার্যকর হলে কারাবন্দিদের কল্যাণ নিশ্চিত, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ সহজতর এবং বিদেশি কারাবন্দিদের রক্ষণাবেক্ষণে মালদ্বীপ সরকারের আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ হ্রাসে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলেও যোগ করেন হাইকমিশনার।
মালদ্বীপের কারা কমিশনার, প্রস্তাবিত এ চুক্তির দ্রুত অগ্রগতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একইসাথে দেশটির কারাগারে ভাষাগত চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন এবং কারা কর্মকর্তাদের জন্য বাংলা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এছাড়াও তিনি মালদ্বীপের কারা কর্মকর্তাদের জন্য বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি আয়োজনের আগ্রহ ব্যক্ত করেন, যাতে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
বৈঠকে দুই দেশেই কারা প্রশাসনের পাশাপাশি অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের গুরুত্বের ওপর একমত পোষণ করা হয়।
বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ