ছয় দিন আগে সৌদি থেকে ফিরে এখনও পরিবার খুঁজে পাননি এক নারী। তিনি নিজের বাড়ির ঠিকানা কিংবা পরিবারের ফোন নম্বর কিছুই মনে করতে পারছেন না। নিজেকে মুসলিম এবং সৌদি এই দুটো শব্দ ছাড়া আর কিছুই বলতে পারছেন না ওই নারী। টিকিটের তথ্যানুযায়ী তার নাম রিজিয়া বেগম। আসার পর থেকে তিনি ঢাকার আশকোনায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের কর্মীদের হেফাজতে রয়েছেন।
ব্র্যাক জানিয়েছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ছিল অসংলগ্ন। তিনি নিজের বাড়ির ঠিকানা কিংবা পরিবারের ফোন নম্বর কিছুই মনে করতে পারছেন না। অসংলগ্ন অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) সদস্যরা তার সঙ্গে কথা বলেন। পরে তার মানসিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক নিরাপদ আবাসন ও পরিবারের সন্ধানের জন্য ব্র্যাকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন অ্যাণ্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান বলেন, আসার পর থেকে ওই নারী আমাদের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে অবস্থান করছেন। ব্র্যাকের মনোসামাজিক কাউন্সেলর ও প্রশিক্ষিত কর্মীরা তার সঙ্গে নিয়মিত কথা বলার চেষ্টা করছেন। তবে তিনি নিজের সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারছেন না। তার কাছে কোনো পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র বা ব্যক্তিগত নথিপত্র পাওয়া যায়নি। তার কাছে শুধু বিমানের একটা টিকিট ছিল। সেখানে প্রাথমিক পরিচয় রিজিয়া বেগম, পিতা/স্বামী আব্দুর নুর, শুধু এতোটুকু উল্লেখ আছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সেইফ হোম থেকে দেশে ফিরেছেন। এই নারীর পরিবারকে খুঁজে পেতে আমরা গণমাধ্যমসহ সবার সহায়তা চাইছি।’
কেউ এই নারীর পরিচয় বা তার পরিবারের সন্ধান জানলে অবিলম্বে ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ব্যাবস্থাপক আল আমিন নয়নের নম্বরে (০১৭১২-১৯৭৮৫৪) যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে ব্র্যাক।
বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ