বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫–এর জন্য মনোনীত কবি মোহন রায়হান বলেছেন, পুরস্কার পাওয়া বা না পাওয়া নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে খুব বেশি ভাবছেন না। তাঁর ভাষায়, ‘আমি মনে করি আমার পুরস্কার পাওয়া হয়ে গেছে।’
রবিবার (৮ মার্চ) অমর একুশে বইমেলায় একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহন রায়হান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীই বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করেন। এ বছর মোট নয়জনকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয় এবং তালিকায় তাঁর নাম ছিল প্রথমে। তবে পুরস্কার গ্রহণের অনুষ্ঠানে আটজনকে ডাকা হলেও তাঁকে ডাকা হয়নি। এ কারণে তিনি পুরস্কার গ্রহণ না করে সেখান থেকে চলে যান।
তিনি জানান, কেন তাঁকে ডাকা হয়নি সে বিষয়ে তাঁকে পরে অবহিত করা হয়েছিল এবং তিনি বিষয়টি নিয়ে লিখিত জবাবও দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয় যে তাঁকে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।
কবি বলেন, ‘আমি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার দেওয়ার কথা বলেছেন, আমার ধারণা প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি সঠিকভাবে অবহিত করা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের একটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী সদ্য নির্বাচিত। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তিনি তাঁর পরিচিত শুভাকাঙ্ক্ষীদের মতামত নিয়ে শেষ পর্যন্ত পুরস্কার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।
জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান জানান, পুরস্কার গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি তিনটি শর্ত দিয়েছেন।
প্রথম শর্ত হলো, নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই তিনি যেন পুরস্কারটি গ্রহণ করতে পারেন।
দ্বিতীয় শর্ত, পুরস্কারের অর্থ তিনি নিজে গ্রহণ করবেন না; বরং এই অর্থ কোনো অসচ্ছল কবি, লেখক বা সংস্কৃতিকর্মীর সহায়তায় ব্যয় করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তৃতীয় শর্ত হিসেবে তিনি বলেন, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদানের নীতিমালা সংশোধন করা প্রয়োজন, কারণ প্রতি বছর এ নিয়ে কোনো না কোনো সমস্যা তৈরি হয়।
মোহন রায়হান বলেন, ‘বাংলা একাডেমি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। সেখানে একটি কমিটি পুরস্কার নির্ধারণ করে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকা উচিত নয়। তাই পুরস্কার প্রদানের নীতিমালা সংস্কার করা জরুরি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫–এর জন্য মনোনীত হওয়ার পর কিছু অভিযোগ ওঠায় মোহন রায়হানের পুরস্কারটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। বিষয়টি পর্যালোচনার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে তাঁকে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ২ মার্চ তাঁর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
এর আগে, ১ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি পুরস্কার গ্রহণের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিডি-প্রতিদিন/জামশেদ