বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক এমপি বলেছেন, নির্বাচনের আগে রাজপথে স্লোগান দিয়ে জনগণের কাছে ভোট চাওয়া হয়েছে। এখন আর ভোট চাওয়ার সময় নয়, এখন প্রধান দায়িত্ব হলো নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় সমাজকল্যাণ ফোরামের উদ্যোগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, দলের বিভিন্ন কাজ তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবং খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করা হয়েছে। সেই কাজগুলোই ভোটের সময় জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। এখন দলের নেতাকর্মীদের সততা বজায় রেখে তারেক রহমানকে সমর্থন দিতে হবে এবং জনগণকে জানাতে হবে যে, নির্বাচনের আগে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, জনগণ বিপুল ভোটে সমর্থন দিয়েছে বলেই দল ক্ষমতায় এসেছে। বহু অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করে নেতাকর্মীরা দলকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। সেই অর্জনের সফলতা নিশ্চিত করতে সঠিক ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান।
তিনি আরও বলেন, ১২ মার্চ সংসদ বসবে এবং সেখানে বিরোধী দলের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মতো ২১৩ জন সংসদ সদস্যকে মনোনয়ন দিয়ে নিয়ে এসেছেন তারেক রহমান। দেশের মন্ত্রিসভাও গঠন করা হয়েছে যোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে।
এই সংসদ সদস্য বলেন, জাতীয় সংসদে যখন তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেন, তখনই বোঝা গেছে বাংলাদেশ নতুন ইতিহাসের পথে এগোবে।
নতুন সরকারের অধীনে আর গণতন্ত্রের প্রতি অবহেলা থাকবে না, বিনা কারণে গ্রেফতার, গুম বা মিথ্যা মামলা হবে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জয়নুল আবদিন বলেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি উদ্যোগ, এক কোটি গাছ লাগানো এবং খাল খননের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসবের মাধ্যমে নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে কাজের মিল দেখা যাচ্ছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা ‘খাই খাই’ মানসিকতা থেকে বিরত থাকতে হবে।
আন্দোলনের সময় পল্টন ও গোলাপবাগের কর্মসূচির কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দলের কর্মীরা পালিয়ে যাওয়ার মানুষ নয়।
এই বিএনপি নেতা বলেন, শুরুতেই যে বার্তা দেশের মানুষকে দেওয়া হয়েছে, তাতে বোঝা যায় আগামী পাঁচ বছরে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে।
তাই সবাইকে বেশি বেশি দোয়া করার আহ্বান জানান তিনি। যেন তারেক রহমান দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেন।
ফারুক বলেন, কে এমপি হবেন বা কে মন্ত্রী হবেন— সেটি বড় বিষয় নয়। বড় বিষয় হলো দল, শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া।
এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংগঠনের সভাপতি মনজুর রহমান ভূইয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সোহেল রান্নার সঞ্চালনায় এ সময় আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান, মৎস্যজীবী দলের নেতা ইসমাইল হোসেন সিরাজীসহ অনেকে।
বিডি প্রতিদিন/কেএ