Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৪০

নারীকে পেটালেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দুই ভাই

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

নারীকে পেটালেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দুই ভাই

শেরপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাবেক পৌর কাউন্সিলর নূরজাহান বেগমকে বেধড়ক পিটিয়েছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির রুমানের দুই ভাই মতিন ও ইয়াকুব এবং তাদের সহযোগীরা। সোমবার রাত ৯টার দিকে শহরের গৌরীপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত ওই নেত্রীকে প্রথমে শেরপুর সদর হাসপাতাল, পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও তার অবস্থার অবনতি হলে গতকাল ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর আগে রবিবার নূরজাহান ও তার মেয়েদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেন তারা।

এ সময় নূরজাহানের মেয়ে সোহাগী (৩২) ও রোজী (৩০) এবং একই এলাকার ফজু মিয়ার ছেলে আবদুল খালেক (২৭) আহত হন। আহতদের মধ্যে সোহাগী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশসূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে নূরজাহান বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী ফজু মিয়ার বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে রবিবার সন্ধ্যায় নামাজ পড়ার জন্য মীরগঞ্জ মসজিদে যাওয়ার পথে ফজু মিয়ার সঙ্গে নূরজাহানের মেয়ে রূপনার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ফজু মিয়ার ছেলে খালেক, কুদ্দুছ, মালেক ও রিয়নের নেতৃত্বে শতাধিক যুবক দা, লাঠি, লোহার রড ও দেশি অস্ত্র নিয়ে প্রথমে মীরগঞ্জ এলাকায় নূরজাহানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এরপর তারা নূরজাহানের দুই মেয়ের বাড়িতেও হামলা চালায়। সেখানে নূরজাহানের মেয়ে সোহাগী ও রোজী আহত হন। এ ঘটনার জেরেই সোমবার রাত ৯টার দিকে কয়েক যুবক শহরের গৌরীপুর এলাকায় রড দিয়ে সোহাগী ও রোজীকে উপর্যুপরি পেটায়। হামলার শিকার নূরজাহান বেগম মমেক হাসপাতালে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দুই ভাই ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা দা, লাঠি, লোহার রড ও দেশি অস্ত্র নিয়ে আমার এবং আমার মেয়েদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে।’ তবে এ হামলায় নিজের ভাইদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই জানিয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান বলেন, ‘নূরজাহানের পারিবারিক সমস্যা আমাদের ওপর চাপাচ্ছে। আমার এক ভাই হাজী ও অন্য ভাই তাবলিগ জামাত করে। তাদের দ্বারা এ কাজ অসম্ভব।’ জানতে চাইলে শেরপুর সদর থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর