Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ মার্চ, ২০১৯ ০১:৩৭

কেউ ভোট দিতে পারেনি অভিযোগ নেই : ঢাবি প্রশাসন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

কেউ ভোট দিতে পারেনি অভিযোগ নেই : ঢাবি প্রশাসন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে কেউ ভোট দিতে পারেননি, কারও ভোট অন্য কেউ দিয়েছেন, কেউ হেনস্থার শিকার হয়েছেন, এমন কোনো অভিযোগ নির্বাচন পরিচালনায় নিযুক্ত কোনো রিটার্নিং অফিসার পাননি বলে দাবি করেছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল বিশ^বিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো কোনো মহল তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ছাড়াই নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে মনগড়া মন্তব্য ও ব্যাখ্যা প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

নির্বাচনের দিন বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হলের ঘটনা সম্পর্কে বলা হয়, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও পীড়াদায়ক যে, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে একটি অনাকাক্সিক্ষত ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে। অবশ্য ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই এটি চিহ্নিত হওয়ায় বড় ধরনের কর্মবিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। ভোট কেন্দ্রের বুথ সংলগ্ন একটি কক্ষ থেকে ব্যবহৃত (সিল মারা!) ব্যালট ভর্তি একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি উপাচার্য অবহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই হলের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম স্থগিত, নতুন প্রাধ্যক্ষ নিয়োগ এবং ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। 

ভোটার সারিতে দীর্ঘ লাইন, কালক্ষেপণের বিষয়ে বলা হয়, হল প্রশাসন বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক বুথ তৈরি ও ব্যালট পেপার সরবরাহ-টেবিল স্থাপন করেছিল। অধিকন্তু, সংশ্লিষ্ট হলের প্রাধ্যক্ষ, রিটার্নিং অফিসার, আবাসিক শিক্ষক ও বিএনসিসির সদস্যরা মাইক ব্যবহার করে ভোটার-লাইনে যাতে স্থবিরতা সৃষ্টি না হয় সে জন্য অনুরোধ করেছেন। ফলে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার মধ্যেই সব ভোট কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনের অবসান ঘটে এবং উপস্থিত সব শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের, কম-বেশি, আগে-পরে স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ভোট দিতে সক্ষম হয়।

রোকেয়া হলের ঘটনার বিষয়ে বলা হয়, রোকেয়া হলে ব্যালট বাক্সের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে। মূলত সেখানে ছিল ছয়টি ব্যালট বাক্স, আর তিনটি ছিল ব্যালটের ট্রাংক। অতএব, নয়টি ব্যালট বাক্সের ছয়টি পাওয়া গেল আর তিনটি গোপন করা হয়েছে- এ বক্তব্য অসাড় ও মনগড়া।

নির্বাচনের ফলাফল বিলম্বে প্রকাশের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুয়েত-মৈত্রী হল ও রোকেয়া হলে ভোটগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হওয়া, সুফিয়া কামাল হলের ফলাফল দেরিতে পাওয়া, ভোট গণনার মেশিন সংখ্যা কম থাকা ও ১৮টি হলের প্রাপ্ত ফলাফল সমন্বয় করে চূড়ান্ত ফল তৈরি করতে বিলম্ব হয়ে যায়।

এতে আরও বলা হয়, তিন দশক পর এ বিরাট কর্মযজ্ঞের আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় অনিচ্ছাকৃত কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে। ব্যবস্থাপনার নীতিমালায় কিছু অস্পষ্টতা ও অপর্যাপ্ততা ছিল। ফলে কোথাও কোথাও বিভিন্ন প্রশ্ন, যেমন : ভোটারের হাতে অমোচনীয় কালি লাগানো, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার প্রভৃতি উত্থাপিত হয়েছে। এসবের সংস্কৃতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনের ইতিহাসে নেই। তবে ভোটারের স¦াক্ষর গ্রহণ ও পরিচয়পত্র পাঞ্চ করে ব্যালট পেপার দেওয়া হয়েছে।


আপনার মন্তব্য