Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জুন, ২০১৯ ২৩:২৭

পাঁচ দিন ধরে তিতাস সেতুপথ বন্ধ

বিচ্ছিন্ন সিলেট বিভাগ সড়কে যানবাহনের সারি থমকে

মোশাররফ হোসেন বেলাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

বিচ্ছিন্ন সিলেট বিভাগ সড়কে যানবাহনের সারি থমকে

পাঁচ দিন আগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইলের শাহবাজপুরে তিতাস নদীর ওপর সেতুর চতুর্থ স্পেনের ফুটপাথসহ রেলিং ভেঙে পড়ার পর কার্যত সড়ক যোগাযোগে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে সিলেট বিভাগ। নামমাত্র বিকল্প সড়ক পথে কিছু যানবাহন চলাচল করছে। এ অবস্থায় হাজার হাজার পণ্যবাহী ট্রাক ও যানবাহন মহাসড়কের ওপর আটকে রয়েছে। ফলে নষ্ট হচ্ছে ট্রাক বোঝাই কাঁচামাল। অভিযোগ পাওয়া গেছে, রাতে মহাসড়কে ডাকাতদের উপদ্রবে আতঙ্কে রয়েছেন যান চালকরা। পায়ে হেঁটেও মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিচ্ছেন মানুষজন। গতকাল সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সিলেট থেকে শাহবাজপুরে সেতুর গোড়া পর্যন্ত দীর্ঘ মহাসড়কের ওপর অবস্থান করছে দেশের বিভিন্ন স্থানে গন্তব্যমুখী হাজার হাজার মালবোঝাই ট্রাক।

আজকালের মধ্যেই বাস চলবে : এদিকে জেলার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শামীম আল মামুন জানিয়েছেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইলের শাহবাজপুর সেতুতে বেইলি স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে। আজ বিকাল অথবা আগামীকাল থেকে বাস চলাচল করতে পারবে এ সেতুর উপর দিয়ে। প্রাথমিকভাবে যাত্রী নামিয়ে শুধু খালি বাস সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে। তবে মাল বোঝাই ট্রাকগুলোকে বিকল্প সড়ক দিয়েই চলতে হবে। পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে তিতাস নদীতে ফেরি দিয়ে যান পারাপারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এজন্য প্রয়োজনীয় এপ্রোচ সড়ক ও ঘাট না থাকায় সহসা ফেরি চালু হচ্ছে না। বেইলি স্থাপনের পাশাপাশি এপ্রোচ সড়ক ও ঘাট বানানোর কাজও চলছে। এতে আরও ৩/৪ দিন সময় লাগবে। পুরাতন সেতুটির পাশাপাশি নতুন আরেকটি সেতু নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে। এটি আগামী মাসের ৩ তারিখে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

সেতুর অন্যপাশে সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্তও দীর্ঘ সিলেটমুখী ট্রাকের সারি। দেখা গেছে, সরাইলের ইসলামাবাদে আটকে পড়া ট্রাক চালকরা একটি কাভার্ড ভ্যানের নিচে ১০/১২ জন চালক আলু ভর্তা দিয়ে ভাত খাচ্ছেন। ওই গ্রামের বৃদ্ধ আবদুর রাজ্জাক এই খাবারের ব্যবস্থা করেন। এ সময় ট্রাক চালক মানিক মিয়া জানান, বিশ্বরোডে তিনি ৩ দিন গাড়ি নিয়ে অবস্থান করছেন। প্যাকেটজাত বিভিন্ন পানীয় ভর্তি কাভার্ড ভ্যান নিয়ে যাচ্ছেন সিলেটে। বিকল্প রাস্তার একটিতে ট্রাক বিকল হয়ে পড়লে এবং অন্যটিতে ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ট্রাক নিয়ে সড়কে অবস্থান করছেন। এসব পণ্য বোঝাই আরও কটি কাভার্ড ভ্যানের চালক মোতাচ্ছির আলী, আলীমউদ্দিন, শাহজাহান এভাবে মহাসড়কে পড়ে থাকায় তাদের নানা ভোগান্তি হচ্ছে বলে জানান। মহাসড়কের এই স্থানে (ইসলামাবাদে) নিজেদের নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে তারা জানান, ভয়ঙ্কর জায়গা এটি। রাতে ডাকাতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। গ্রাম থেকে ডাকাতরা উঠে আসে। সে কারণে সারারাত জেগে থাকতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ে পুলিশ টহল দিয়ে চলে  গেলে আবারো ডাকাতদের আনাগোনা শুরু হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ থেকে পিয়াজ ভর্তি ট্রাক নিয়ে বিশ্বরোডে আটকা পড়েছেন জামান মিয়া। সিলেটের কালীঘাট তার গন্তব্য। তিনি জানান, তার গাড়ি বোঝাই পিয়াজ পচে যাচ্ছে। এ ছাড়া দিনাজপুরের হিলি থেকে পিয়াজ নিয়ে সেতু পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন আবদুস সালাম। তার গাড়ি বোঝাই ৯ লাখ টাকার পিয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কাঁচামাল বোঝাই গাড়ি চলতে দেওয়া হচ্ছে না।

জানা গেছে, সেতুর পূর্ব পাশের রেলিং ভাঙা। এটি সংলগ্ন বেইলি ব্রিজ মেরামত করা হচ্ছে। আর পশ্চিম পাশের বেইলি ব্রিজ দিয়ে হালকা যানবাহন চলাচল করছে। কিন্তু গভীর রাতে এই বেইলি ব্রিজের ওপর দিয়ে পণ্য বোঝাই ট্রাক চলাচল করে বলে অভিযোগ করেন ট্রাক চালকরা। তারা জানান, দেড়-দুই হাজার করে টাকা নিয়ে ভাঙা ব্রিজের একপাশের ওই বেইলি ব্রিজ দিয়ে মাল বোঝাই ট্রাক চলাচলের এ সুযোগ দিচ্ছে এক শ্রেণির পুলিশ। দেড়-দুশো ট্রাক পার হচ্ছে প্রতিরাতেই। যদিও ব্রাহ্মণবাড়িয়া খাটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হোসেন সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে পুলিশের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, রাতে সরকারের এক সচিবকে বহনকারী বাস এই সেতু পাড়ি দিয়েছে। তখন আরও কিছু গাড়ি সেতু পাড়ি দেয়। 

তিতাসের ওপরই নির্মাণাধীন আরেকটি সেতুর কাজ শেষ হতে বিলম্ব আর পুরাতন এই সেতুর মেরামত কাজের ধীরগতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন গাড়ি চালকরা। সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রাকের চালক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সিলেট বিভাগের হাইওয়ে রোড এটা। ৫ দিন ধরে ব্রিজ বন্ধ। আর্মিকে দায়িত্ব দিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই ব্রিজ মেরামত হয়ে যেত।

এদিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় পায়ে হেঁটেই চলছেন শত শত মানুষ। শাহবাজপুর থেকে রামপুর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে যাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষজন।


আপনার মন্তব্য