শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৬

তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান দুদকের বেশি প্রয়োজন

-ইকবাল মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান দুদকের বেশি প্রয়োজন

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য উন্নয়ন-সহযোগীদের আর্থিক সহযোগিতার চেয়ে তাত্ত্বিক এবং ব্যবহারিক জ্ঞান ও কর্মকৌশল দুদকের বেশি প্রয়োজন। কমিশনের চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে নিজস্ব সক্ষমতার ঘাটতি, কাক্সিক্ষত মাত্রায় জনআস্থার অভাব, প্রযুক্তিগত দুর্বলতা, বিশ্বব্যাপী তথ্য প্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রতা, অনীহা ইত্যাদি। গতকাল দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) কান্ট্রি ডিরেক্টর জো হাইউন গুয়ের নেতৃত্বে দুই সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুদকের জনসংযোগ কার্যালয় বৈঠকের বিষয়টি জানিয়েছে।

কোইকা প্রতিনিধি দলকে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে কমিশন বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কমিশনের মামলায় একসময় সাজার হার মাত্র ২২ শতাংশে নেমে এসেছিল। এটা বর্তমানে ৭০ শতাংশের কাছাকাছি। তিন বছর ধরে সাজার হারের একটি ইতিবাচক সামঞ্জস্যপূর্ণ ধারাবাহিকতা রয়েছে। ইকবাল মাহমুদ বলেন, অপরাধীদের চিহ্নিত করা, থামিয়ে দেওয়া, প্রতিরোধ ও আইনের মুখোমুখি আনতে যে মানের প্রযুক্তির প্রয়োজন তা কমিশনের কাছে এখনো নেই। কমিশনের নিজস্ব ফরেনসিক ল্যাব, মোবাইল ট্র্যাকিং সিস্টেম না থাকায় মামলার তদন্ত ও আসামিদের গ্রেফতারে যেসব সমস্যা হয়, সে বিষয়ে তিনি প্রতিনিধি দলকে অবহিত করেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, পারস্পরিক আইনগত সহায়তা অনুরোধের (এমএলএআর) মাধ্যমে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর কাছে যেসব তথ্য চাওয়া হয়, তা প্রায়ই সময়মতো পাওয়া যায় না। তথ্য না পাওয়ার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানি লন্ডারিং মামলার তদন্ত শেষ করা যায় না। অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যায় না। পাচার হওয়া সম্পদও ফিরিয়ে আনা যায় না। তিনি বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, ঘুষ লেনদেন হচ্ছে কি না, তা মনিটরিং করার জন্য যে মানের প্রযুক্তির দরকার, তাতেও কমিশনের ঘাটতি রয়েছে। দুদক চেয়ারম্যান কমিশনের প্রযুক্তির উন্নয়ন, কর্মকৌশলপত্র প্রণয়ন, উত্তম চর্চার শেয়ারিং এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কোইকার সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রতিনিধি দলটিকে স্বাগত জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, জাতিসংঘ দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকারি সেবা প্রদানে হয়রানি, দুর্নীতি, অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রতা দূর করতে বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য বিভিন্ন সুপারিশ প্রণয়ন করে সরকারের কাছে পাঠিয়েছে দুদক। সুশাসনের পথ আরও সুগম করার লক্ষ্যে এ ধরনের সুপারিশ করা হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য