জুলাই-আগস্ট গণ অভ্যুত্থানে রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে হয়েছে। গতকাল বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ যুক্তিতর্কের সমাপনীতে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিবসহ সব আসামির মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে প্রসিকিউশন।
পরে আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ১৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এদিন প্রসিকিউশন পক্ষে প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম সাক্ষীদের জবানবন্দি, ফরেনসিক প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে যুক্তি তুলে ধরেন। এ মামলার আট আসামির মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন- শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম। গতকাল তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। হাবিব ছাড়া পলাতক আসামিরা হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল। গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের দিন রাজধানীর চানখাঁরপুলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ছয় আন্দোলনকারী। এ ঘটনায় করা মামলাটিই পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে প্রথম মামলা (আইসিটি বিডি কেস নম্বর ১/২০২৫) হিসেবে দাখিল হয়।
ইনুর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য ১৭ ডিসেম্বর : চব্বিশের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা, উসকানি, ষড়যন্ত্রসহ সুনির্দিষ্ট আট অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এ মামলায় পঞ্চম দিনের মতো প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন শুরুতে সিআইডির ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ পুলিশের এসআই শাহেদ জোবায়ের লরেন্সকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
গত ৮ ডিসেম্বর জবানবন্দি দেন লরেন্স। পরে প্রসিকিউশনের পঞ্চম সাক্ষী কাশিপুর কারাগার-২ এ সাবেক ডেপুটি জেলার সাখাওয়াত হোসেন জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। তাকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরা শেষে পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামীকাল ১৭ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।