বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন। তিনি জীবনে নেতৃত্ব ও মাতৃত্বের অনন্য সমন্বয় ঘটিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে দৃঢ়তা ছিল। আবার মাতৃত্বে ছিল শাসন ও স্নেহের ভারসাম্য। এ দুইয়ের মিলনেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক ব্যতিক্রমী রাষ্ট্রনায়ক।’ গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে খালেদা জিয়া স্মরণে শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন। আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন ও বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলাল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এমন একজন নেতা, যিনি নিজের দলের প্রভাবশালী নেতা বা মন্ত্রী হলেও অনিয়মের অভিযোগে ছাড় দেননি। নিজের দলের সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হননি; যা দেশের রাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত।’ তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় উদাহরণে ভরা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, প্রবাসীকল্যাণ, রেমিট্যান্স ও অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনে তাঁর অবদান অস্বীকারের সুযোগ নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা যারা শুধু মুখে বলেছে, তাদের অনেকেই তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারেনি। অথচ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।’
চেয়ারম্যানের এই উপদেষ্টা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না। অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন। এত নির্যাতন ও অবহেলার পরও প্রতিহিংসার পরিবর্তে ভালোবাসা ও স্থিতিশীলতার আহ্বান জানানো কেবল তাঁর পক্ষেই সম্ভব ছিল।’
আলাল আরও বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারই প্রথম দেশে ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ চালু করে। তথ্যপ্রযুক্তির যে অগ্রযাত্রা আজ বাংলাদেশে দৃশ্যমান, তার ভিত্তি তখনই রচিত হয়। সে সময় তারেক রহমান তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন, যা ছিল সময়ের তুলনায় অনেক অগ্রসর চিন্তা।’
তারেক রহমানকে ঘিরে নানান অভিযোগের প্রসঙ্গে আলাল বলেন, ‘হাওয়া ভবন থেকে যে ল্যাপটপটি নেওয়া হয়েছিল, সেখানে কোনো অবৈধ সম্পদের নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, অর্থনীতি বহুমুখীকরণ ও গণতন্ত্র তৃণমূলে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।’