অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল দুর্নীতির প্রক্রিয়া থেকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যাওয়া। আমরা দুর্নীতির উপরিকাঠামো ভেঙে দিয়েছি। ২০১০ সালের কালো আইন বাতিল করেছি। গতকাল রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের শুরুতে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) ‘এনার্জি ফর চেঞ্জ’ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন জ্বালানি উপদেষ্টা। উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের ক্ষমতা কুক্ষিগত করা হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে বিইআরসির ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়েছি।
মন্ত্রণালয়ের সচিবরা বিদ্যুতের বিভিন্ন কোম্পানির চেয়ারম্যান ছিলেন। এর পরিবর্তন করেছি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫ প্রণয়ন করেছি। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে অস্থিরতা ছিল। ভারসাম্য আনতে নীতিমালা প্রস্তুত করেছি।
দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুটি কমিটি করা হয়েছিল। কমিটি সুনির্দিষ্টভাবে বলেছে কোথায় দুর্নীতি হয়েছে। আমরা এই তথ্যপ্রমাণ রেখে যাচ্ছি, যাতে নতুন নির্বাচিত সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে পারে। এ ছাড়া প্রকল্প ধরে ধরে ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন- আরেকটা বড় কাজ রেখে যাচ্ছি সেটি হলো- বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মাস্টারপ্ল্যান। পরবর্তী সরকারের জন্য একটি চিঠি রেখে যাব যেখানে আমরা কখন ও কোথায় কোন কাজ শুরু করেছিলাম, এর পরবর্তী অগ্রগতি এবং এর করণীয় কী হবে এ সম্পর্কে বিস্তারিত থাকবে।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগে সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সরকারি অফিস রুপটপ সোলার ও নেট মিটারিং পলিসির আওতায় নিয়ে এসেছি। সৌরবিদ্যুতের জন্য উন্মুক্ত চুক্তির ব্যবস্থা করেছি। জ্বালানি খাতের বিশাল অঙ্কের বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে। লেট পেমেন্ট ফি ৫০ থেকে ৬০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। বকেয়া পরিশোধ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। এর ফলে তেল ও এলএনজি আমদানিতে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। প্রিমিয়াম গড়ে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। মাত্র ছয় মাসেই প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। ৫৮ বছর পুরোনো ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়নের প্রকল্প দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ আইনের আওতা থেকে বের করে সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
ফাওজুল কবির বলেন, আমরা অনেক কিছুই করতে পারিনি। আশা করব নতুন সরকার তার পূর্ণ মেয়াদে বিদু্যুৎ-জ্বালানির প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করবে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ নিয়ে অনিশ্চয়তা না থাকলে আরও অনেক কিছু করতে পারতাম। এই সরকারের মেয়াদে অনেক গ্যাস কূপ খনন করলেও যে পরিমাণ পেয়েছি তা উল্লেখযোগ্য কিছু না। কয়লা উত্তোলনের বিষয়েও নির্বাচিত সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।