সিলেটে ‘হানিট্র্যাপে’ ফেলে দুই যুবককে জিম্মি করে রাখা ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় জিম্মি অবস্থা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুই যুবককে। গতকাল দুপুরে কোতোয়ালি থানায় সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। গ্রেপ্তাররা হলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাউরভাগ গ্রামের আজিজুল হক বাবুলের মেয়ে তানজিলা আক্তার প্রকাশ রাবেয়া বেগম তানহা (২৭), নগরীর মিরাবাজার আগপাড়ার জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে জেসমিন আক্তার (২২), গোয়াইনঘাটের জাফলং মোহাম্মদপুরের আলাল উদ্দিনের ছেলে আবদুল জলিল (৩০) ও মোগলাবাজার থানার গঙ্গানগরের তোফাজ্জল আলীর ছেলে জায়েদ আহমদ (৩৫)।
পুলিশ জানায়, হানিট্র্যাপে ফেলে গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরের মেন্দিবাগ পয়েন্ট থেকে মাহমুদুল হাসান রিফাত ও তার বন্ধু মাহফুজ আলীকে জায়েদ আহমদের অটোরিকশায় তোলেন আবদুল জলিল। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের নগরীর সোবহানীঘাট যতরপুরস্থ নবপুষ্প-১১৩ নম্বর বাসার পঞ্চম তলায় তাদের নিয়ে জিম্মি করে রাখা হয়। ওই বাসায় আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন হ্যানিট্র্যাপ চক্রের মূলহোতা তানিজলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা ও জেসমিন আক্তারসহ চার-পাঁচজন। তারা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে ওই দুই যুবককে শারীরিক নির্যাতন করেন। এ ছাড়া তাদের বিবস্ত্র করে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। রিফাত তার আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা বিকাশে এনে ওই চক্রকে প্রদান করে। একপর্যায়ে ওই দুই যুুবকের পরিবারের সন্দেহ হলে তারা পুলিশকে অবগত করলে শুক্রবার অভিযান চালিয়ে হানিট্র্যাপ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ওই বাসা থেকে জিম্মি দুই যুবককেও উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া হানিট্র্যাপ চক্রের কাছ থেকে একটি প্রাইভেট কার, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, একটি আইফোন-১৪ প্রো ম্যাক্স উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসএমপির মিডিয়া অফিসার মো. মনজুরুল আলম।