লক্ষ্মীপুরে এক ইটভাটায় শ্রমিকের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য পৈশাচিক নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বেদম পিটুনির মুখে ওই শ্রমিককে বলতে শোনা গেছে, ‘জীবনে এগিন কইরতাননো (করব না)। মাঝির যা ক্ষতিপূরণ এখন দিয়া যামু। ইসমাইল মাঝির লগে এই কাম করিস না কেউ।’ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৮০ হাজার টাকায় চট্টগ্রামের একটি ইটভাটায় কাজ করার জন্য ইসমাইল মাঝির সঙ্গে কালু নামে এক শ্রমিক চুক্তিবদ্ধ হন। সে অনুযায়ী কালু চট্টগ্রামের ইটভাটার শ্রমিকের কাজ করতেন। কিছুদিন আগে তিনি অসুস্থতার কারণে বাড়িতে চলে যান। পরে ইসমাইল মাঝি লোকজন নিয়ে কালুকে ধরে আনেন। কিন্তু কালু কাজে যোগ দিতে না চাইলে তাকে ইসমাইলের দুই হাত বেঁধে অফিসের (দোকানঘর) আঁড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে বেদম পিটানো হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ইসমাইল মাঝি লাঠি হাতে ওই শ্রমিককে পেটাচ্ছেন। এ সময় তাকে উদ্দেশ করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেওয়া হচ্ছে। পেটানোর মাঝে তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করানো হয়। ৯ এপ্রিল বিকালে উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের মৌলভিরহাট এলাকার স্লুইসগেট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৬ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ভিডিওটি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ভাইরাল ভিডিওটি দেখে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত ইটভাটা মাঝির বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ইসমাইল মাঝি বলেন, ‘চট্টগ্রামের একটি ইটভাটায় কাজের জন্য কালুকে বছরের শুরুতে ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু সে কাজ করছে না। প্রায়ই নানা অজুহাতে কাজ ফেলে চলে আসে।’ তিনি দাবি করেন, দুই হাত বেঁধে ঝুলিয়ে রাখলেও বেশি মারধর করা হয়নি।
ভয় দেখানোর জন্য সামান্য কয়েকটি বেত্রাঘাত করা হয়।
তবে ভুক্তভোগী কালু মিয়া বলেন, ‘ইসমাইল মাঝি আমাকে তার লোকজন দিয়ে ধরে নিয়ে হাত বেঁধে মারধর করে। পরে আমার বাড়িতে খবর দেয় ১ লাখ টাকা নিয়ে আসার জন্য। মারধরের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে। মাঝি পালিয়ে গেছে।’
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ভিকটিমকে আমরা উদ্ধার করেছি। অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা অব্যাহত আছে।