মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন সোহেল কিবরিয়া বলেন, বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক হোম অ্যাপ্লায়েন্স শিল্প বর্তমানে দ্রুত বিকাশমান। স্থানীয় উৎপাদন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুতায়নের কারণে ফ্রিজ, টিভি, এসি, ওয়াশিং মেশিনসহ অন্যান্য হাউসহোল্ড পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। দেশি ব্র্যান্ডগুলো এখন বাজারের বড় অংশ দখল করছে এবং রপ্তানির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে কাঁচামাল আমদানিনির্ভরতা ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশি ও বিদেশি ব্র্যান্ডের প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় আমরা মূলত উন্নতমানের পণ্য, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এবং নির্ভরযোগ্য আফটার-সেলস সার্ভিসের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারের চাহিদা ও ক্রেতাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অব্যাহত রাখা হচ্ছে, যাতে গ্রাহকের কাছে সর্বোত্তম মূল্য ও অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা যায়। সোহেল কিবরিয়া বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় সুযোগ হলো দেশের বড় ভোক্তাবাজার, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারের শিল্পসহায়ক নীতি। তবে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাঁচামাল ও প্রযুক্তিতে আমদানিনির্ভরতা, দক্ষ জনবলের ঘাটতি এবং বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ও ডলারসংকটের কারণে কাঁচামাল ও কম্পোনেন্ট আমদানির খরচ বেড়েছে, ফলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব পণ্যের দামের ওপরও পড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বাজারে চাহিদা কিছুটা কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি এলসি ও আমদানি প্রক্রিয়ায় জটিলতা ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রমও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। সোহেল কিবরিয়া বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভোক্তাদের ক্রয় আচরণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে ক্রেতারা এখন তুলনামূলকভাবে বাজেট-সচেতন এবং ভ্যালু-ফর-মানি পণ্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি অনেকেই কেনার আগে দাম ও অফার তুলনা করছেন এবং ইএমআই বা ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং ও সমাজমাধ্যম ব্র্যান্ড প্রচার ও গ্রাহকের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দ্রুত পণ্যের তথ্য, অফার ও ক্যাম্পেইন গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রাহকের প্রতিক্রিয়া ও আচরণ বিশ্লেষণ করে আরও লক্ষ্যভিত্তিক মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনা করাও সহজ হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিক্রয়োত্তর সেবা গ্রাহকসন্তুষ্টি এবং ব্র্যান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সাপোর্ট, সার্ভিস, রক্ষণাবেক্ষণ গ্রাহকের পুনঃক্রয় ও ব্র্যান্ড লয়ালটি বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। ভালো বিক্রয়োত্তর সেবা থাকলে স্থানীয় ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার চাপেও ব্র্যান্ড বাজারে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারে।
সোহেল কিবরিয়া বলেন, স্মার্ট হোম এবং আধুনিক প্রযুক্তি বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক হোম অ্যাপ্লায়েন্স শিল্পের জন্য বৃহৎ ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে। ক্রেতারা এখন স্মার্ট এবং এনার্জি-সেভিং পণ্যের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছেন। এতে স্থানীয় উৎপাদন, ডিজিটাল ইকোসিস্টেম এবং নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি শুধু শহর নয়, গ্রামীণ এলাকায়ও ক্রেতাদের কাছে প্রবেশের সম্ভাবনা রাখে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক হোম অ্যাপ্লায়েন্স শিল্প বর্তমানে দ্রুত বৃদ্ধি ও উদীয়মান অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় উৎপাদন শক্তিশালী হয়েছে, মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং রপ্তানি বাজারে সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তবে কাঁচামাল আমদানিনির্ভরতা, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এখনো গুরুত্বপূর্ণ বাধা। সঠিক নীতি, প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ ও শক্তিশালী বিক্রয়োত্তর সেবার মাধ্যমে এটি দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী শিল্প খাত হিসেবে বিকশিত হতে পারে। সোহেল কিবরিয়া বলেন, ভবিষ্যতে আমাদের প্রতিষ্ঠান লক্ষ রাখছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ডের উপস্থিতি বৃদ্ধি, গ্রাহকের জন্য উচ্চমানের, স্মার্ট ও এনার্জি-সেভিং পণ্য সরবরাহ এবং দৃঢ় বিক্রয়োত্তর সেবা। পাশাপাশি আমরা আমাদের পণ্য শুধু দেশি বাজারে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্য রপ্তানি করার পরিকল্পনা করছি। এ ছাড়া প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন আরও প্রসারিত করে দেশের ইলেকট্রনিক শিল্পকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি।