logo
আপডেট : ১১ মার্চ, ২০১৫ ০০:০০
ইন্টারভিউ : শাহীন সামাদ
<font style=\'color:#000000\'>নতুনদের মধ্যে অনেক প্রতিভা লুকিয়ে আছে</font>
বাংলাদেশের জনপ্রিয় নজরুলসংগীত শিল্পী শাহীন সামাদ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় গানের মাধ্যমে যুদ্ধ করেছিলেন। সম্প্রতি ব্র্যাক স্কুলের তৃণমূল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া প্রতিভার প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান \'তারায় তারায় দীপশিখা\'র সংগীত বিভাগে বিচারক হিসেবে থাকছেন তিনি। গান ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে আজ তার সাক্ষাৎকার।

নতুনদের মধ্যে অনেক প্রতিভা লুকিয়ে আছে

'তারায় তারায় দীপশিখা' অনুষ্ঠানটি নিয়ে কিছু বলুন?

এমন একটি অনুষ্ঠানে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পেরে ভালো লাগছে। এবার আমরা তিন লাখ ছেলেমেয়ের মধ্য থেকে ২০০ ছেলেমেয়েকে খুঁজে বের করেছি অনেক কষ্ট করে। আল্লাহ তাদের মধ্যে যে কি পরিমাণ প্রতিভা দিয়েছেন, তাদের না দেখলে দর্শক তা বুঝবে না। এখানে অনেক প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়ে আছে তাদের নাচ দেখলে ও গান শুনলে দর্শকরা পাগল হয়ে যাবে। আমি চ্যানেল আইকে ধন্যবাদ জানাই এমন একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য।

 

আমরা সব সময় দেখে থাকি, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসা শিল্পীদের প্রতিযোগিতা শেষে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এ বিষয়টি কেন?

একটি টিভি চ্যানেল অনেক কষ্ট করে একজন প্রতিযোগীকে তৈরি করে। প্রতিযোগিতা শেষে অনেক শিল্পী খেই হারিয়ে ফেলে। আমি মনে করি, টিভি চ্যানেলগুলো যদি তাদের দিয়ে প্রতি বছর দুই-তিনটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কিংবা সংগীতের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তাদের পড়াশোনা করতে পাঠানো হয়, তা হলে তারা আর হারিয়ে যাবে না।

 

আপনি বাংলাদেশ মুক্তি-সংগ্রামী শিল্পী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এ সংস্থাটি গঠিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে কলকাতার ১৪৪ নং লেনিন সরণিতে। আমাদের সহযোগিতা করেছিলেন দীপেন বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক সাংবাদিক। মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করতে আমরা এটা করেছিলাম। আমরা বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে গিয়ে তাদের গান শুনাতাম।

 

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে আপনাদের ভূমিকা কি ছিল?

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গিয়ে দিনের পর দিন বসে থাকা যেত না, কারণ আমাদের কাজটা ছিল বাইরে। সমর দাস আমাদের তখন দুবার ডেকেছিলেন। তারপর আমরা সেখানে ৬-৮টি গান রেকর্ড করি। একপর্যায়ে আমরা টালিগঞ্জ টেকনিশিয়ান স্টুডিও থেকে ১৪টি গান রেকর্ড করে পাঠিয়েছিলাম। সে গানগুলোর মধ্যে ছিল 'জনতার সংগ্রাম চলবেই', 'আমার প্রতিবাদের ভাষা', 'একি অপরূপ রূপে মা তোমার', 'খাঁটি সোনার চেয়েও খাঁটি' ইত্যাদি। সেখানেও নজরুলের গানই ছিল বেশি। কারণ নজরুলের গানগুলো ছিল অনুপ্রেরণামূলক।

 

নজরুলের গানের চর্চা যথাযথভাবে হচ্ছে।

আমি দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার পর দেখেছি ময়মনসিংহ, জামালপুর, রাজশাহীতে নজরুলের গান শুদ্ধভাবে চর্চা করছে। সেখানে নতুন ছেলেমেয়েদের কণ্ঠে নজরুলের গান শুনে আমি মুগ্ধ। ওদের এত সুন্দর কণ্ঠ ও গায়কী আমাকে আত্দবিশ্বাসী করে তুলেছে। দেশব্যাপী নজরুলসংগীত চর্চা বেড়েছে। নজরুল দীর্ঘদিন টিকে থাকবে। তবে জাতীয় পর্যায়ে আরও উদ্যোগ নেওয়া দরকার। দেশের গণমাধ্যমগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

 

নজরুলের গানের প্রতি তরুণদের আগ্রহ কেমন।

এখন তরুণদের কর্তব্যপরায়ণতার অভাব। গান শিখতে শ্রম-সাধনা দরকার, নতুনদের ক্ষেত্রে তার অভাব রয়েছে। তারা দ্রুত স্টার হতে চায়। কিন্তু স্টার হতে গেলে অধিক অধ্যবসায়ের দরকার। তারা প্রকৃত চর্চা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এগুলোর পিছনে তাদের পরিবারও অনেকাংশে দায়ী। বেশির ভাগ পরিবার চায় তাদের সন্তানরা যেন তাড়াতাড়ি স্টার হয়। তবে দেশে অনেক সম্ভবনাময় তরুণ রয়েছে তারা সত্যিকার অর্থে নিয়মিত সংগীত অনুশীলন করে।

* আলী আফতাব