নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে মানিকগঞ্জ কল্যাণ সমিতি। পিঠা উৎসব আর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর ছিল প্রবাসীদের মিলনমেলা।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এ উৎসবের উদ্বোধন করেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার ও আইনজীবী মঈন চৌধুরী।
‘মানিকগঞ্জ কল্যাণ সমিতি’র উদ্যোগে আয়োজিত বর্ষবরণ ও পিঠা উৎসবে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী অংশ নেন। পিঠা উৎসবের আহ্বায়ক নূরজাহান ভূঁইয়া ঋতুর সার্বিক সমন্বয়ে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
২৭ ধরনের পিঠা দিয়ে সাজানো হয় আয়োজন। অতিথিরা পিঠার বৈচিত্র্য ও আয়োজকদের আন্তরিকতার প্রশংসা করেন। প্রধান অতিথি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার এসোসিয়েশনের পরিচালক অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী বলেন, বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে চিরায়ত বাংলাকে দৃশ্যমান করতে এ প্রয়াস প্রবাসের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কারণ, তারা নতুন প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রাখার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। বহুজাতিক সমাজে বাঙালিত্ব জাগ্রত রাখতে নিজ বাসা থেকে হরেক রকমের পিঠা তৈরি করে তাপরিবেশনের মধ্যে যে তৃপ্তি তা আর কোনো সংগঠন এখনো তৈরি করতে পারেনি।
উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সেলিম রেজা, ফোবানার লিডার কাজী সাখাওয়াৎ হোসেন আজমসহ অনেকে।
সোহেল মল্লিক ও শুক্লা রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পিঠা প্রস্তুতকারী গৃহিণীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা পরিবেশন করেন প্রবাসী নারীরা।
পিঠা উৎসবে দুধ-চিতই, পাটি শাপটা, ভাপা, তেলের পিঠা, পাকন, নারিকেল পুলি, সন্দেশসহ নানা স্বাদের পিঠা ছিল। অনেকেই সন্তানদের নিয়ে অংশ নেন এবং পিঠার সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেন।
অনুষ্ঠানে আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির সভাপতি লুৎফর রহমান জুবায়েরের সভাপতিত্বে এতে সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। শেষে বৈশাখী আমেজে গান পরিবেশন করেন প্রবাসী শিল্পী কৃষ্ণাতিথি ও সজল।
বিডি-প্রতিদিন/এমই