টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে আজ জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে এক বিশেষ বিজনেস সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা এবং এশিয়ায় অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে এর সক্ষমতার বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশাল কর্মক্ষম যুবশক্তি ও কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাফল্যের উদাহরণ টেনে তিনি আইটি, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো উদীয়মান খাতগুলোতে জাপানি প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
সেমিনারে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সুবিধা নিয়ে একটি বিস্তারিত পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন দূতাবাসের কাউন্সেলর মুহাম্মদ সফিউল আজম। সেখানে উঠে আসে যে, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে পরিণত হতে যাচ্ছে। এ ছাড়া শতভাগ বৈদেশিক মালিকানা, কর অব্যাহতি এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মতো আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ করে বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করা হয়।
এফইসি-এর প্রেসিডেন্ট কেন মাতসুজাওয়া বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়নের প্রশংসা করে এই ফোরামকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদূরপ্রসারী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে অভিহিত করেন।
মতবিনিময় পর্বে রাষ্ট্রদূত জাপানের শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জাপানি ব্যবসায়ীদের যেকোনো প্রয়োজনে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রদূত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন, যা দুই দেশের ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করে।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি