শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ অক্টোবর, ২০২০ ২২:১৬

আলু নিয়ে অলক্ষুনে আলাপ

মেজর (অব.) নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ, পিএইচডি

আলু নিয়ে অলক্ষুনে আলাপ

গোপাল ভাঁড়ের আলু বন্দনা

গোপাল ভাঁড় বসে আছে এক আলুখেতের পাশে, সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিল রাজ্যের উজির। গোপালকে দেখে বলল, কি গোপাল আলু চাষ করেছ বুঝি, বাহঃ বাহঃ বেশ করেছ। গোপাল মওকা পেয়ে শুরু করল আলুর গুণগান। ঠিক বলেছেন উজির মশাই। সত্যিই উপরওয়ালার এক অপূর্ব সৃষ্টি হলো এই আলু। সকালের ভাজি, দুপুরের মাছ, রাতের মুরগি; কোথায় নেই আলু, গরিবের আলু ভর্তা, মধ্যবিত্তের আলুর দম আর বড় লোকের আলুর চপ! ঘরে ঘরে আলুর জয় জয়কার। ঠিক এ সময় সেখানে হাজির স্বয়ং রাজা মশাই। গোপালের বিশাল ভুঁড়ি দেখিয়ে রাজা বললেন, গোপাল করেছ কী? এত তরিতরকারি থাকতে আলু কেন? জান না, আলু মানুষকে মোটা করে ফেলে? মুখের কথা কেড়ে নিয়ে গোপাল বলতে লাগল, ক্ষমা করবেন জাঁহাপনা। সেই কথাই তো আমি এই মূর্খ কৃষকদের বোঝাতে এসেছি। আলুর চেয়ে জঘন্য কোনো তরকারি হয় নাকি? শুধু মোটা কেন? পেটব্যথা, পেট ফোলা, পেট গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস আরও কত কত রোগ যে হয় আলু থেকে। রাজা গোপালের কথায় খুশিতে গদ গদ হয়ে চলে গেলেন। এবার উজির মশাই গোপালকে পাকড়াও করে বললেন, গোপাল, তোমার চরিত্র বলে কি কিছু নেই? আমাকে বললে আলু অনন্য আর রাজাকে বললে আলু জঘন্য, ঘটনাটি কী? একগাল হেসে গোপাল উত্তর দিল, আমি কি আলুর চাকরি করি? আমি তো চাকরি করি মহারাজার। মহারাজা খুশি হলে আমিও খুশি, আলুও খুশি।

 

হল্যান্ডের আলু

রাশিয়া, হল্যান্ড ও বাংলাদেশের তিন বন্ধু বের হয়েছে পায়ে হেঁটে বিশ্ব ভ্রমণে। পথিমধ্যে নিজ দেশের শ্রেষ্ঠত্ব ও গৌরব প্রমাণে মরিয়া হয়ে ওঠে তিন বন্ধু। কিছু দূর হাঁটার পর তারা এক পুকুর পাড়ে বসল বিশ্রাম নিতে। একটু পর সেখানে আরেকজন পথিক বসল। তার সঙ্গে ছিল এক ব্যাগ গম। রাশিয়ার বন্ধু গমের ব্যাগ পুকুরের পানিতে ফেলে বলল, রাশিয়ায় এত গম যে, গম দেখতে আর ভালো লাগে না। আরেকটু হেঁটে তারা আবার বসল আরেকটি পুকুরপাড়ে। সেখানে ব্যাগভর্তি আলু নিয়ে হাজির আরেক পথিক। হল্যান্ডের বন্ধু আলুর ব্যাগ পুকুরে ফেলে দিয়ে বলল হল্যান্ডে এত আলু যে, আলু দেখতে আর ভালো লাগে না। আবারও কিছুক্ষণ হেঁটে সন্ধ্যার আগে তারা পৌঁছল আরেক পুকুরপাড়ে। সেখানেও হাজির আরেক পথিক কিন্তু তার কাছে তেমন কিছুই ছিল না। তাই বলে বাংলাদেশের বন্ধু কী আর বসে থাকতে পারে? শত হলেও দেশের শ্রেষ্ঠত্ব আর গৌরব বলে কথা। তাই সে দাঁড়িয়ে খালি হাতে আসা পথিককেই পুকুরের পানিতে ফেলে দিয়ে বলল, বাংলাদেশে এত মানুষ যে, মানুষ দেখতে আর ভালো লাগে না। বাকি দুই বন্ধু এবার প্রমাদ গুনলো।

 

রাশিয়ান আলু

রাশিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট স্ট্যালিন পূর্ব ঘোষণা দিয়ে এক গ্রামে গেলেন কৃষকদের বাস্তব অবস্থা দেখতে। এক পর্যায়ে তিনি ঢুকে পড়লেন একটি আলুর খামারে। তাকে স্বাগত জানাল কৃষকরা। স্ট্যালিন জিজ্ঞেস করলেন, কেমন আলু হলো এ বছর? কৃষক সরদার এগিয়ে এসে উত্তর দিলেন, মহামান্য প্রেসিডেন্ট, এ বছর আলুর এমন বাম্পার ফলন হয়েছে যে, আলুর বস্তাগুলো একটার ওপর আরেকটা রাখলে স্বয়ং ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানো যাবে। স্ট্যালিন রাগ হয়ে বললেন, ঈশ্বর! কমিউনিস্ট বিশ্বাসে তো ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই? ভয়ার্ত কৃষক কেঁদে কেঁদে বলল, আসলে এই খামারে আলুরও অস্তিত্ব নেই এই বছরে। যা কিছু বলেছি, তার চেয়ে কম বা বেশি বললে সরকারি লোক আর পেটুয়া বাহিনী আমাকে মেরে আলুর ভর্তা বানাবে বলে হুমকি দিয়ে গেছে।

 

পচা আলু

দেশে তখন স্বৈরশাসকের শাসন। এরই মাঝে হলো আলুর বাম্পার ফলন। স্থানীয় কোল্ড স্টোরেজের সামনে প্রখর রোদে দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়েছে এক কৃষক। কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে সারা দিন দাঁড়িয়ে থেকেও আলু জমা করতে পারল না। রাগে, অভিমানে সে গ্রাম ছেড়ে কিছু পচা আলু সঙ্গে নিয়ে রাজধানীতে চলে গেল। যাওয়ার আগে ঘোষণা দিয়ে গেল যেভাবেই হোক, সে স্বৈরশাসকের গায়ে পচা আলু নিক্ষেপ করে সব অরাজকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবে। কদিন পর সে গ্রামে ফিরে এলো। সবাই জিজ্ঞাস করল, সে পচা আলু ছুড়তে পেরেছে কিনা। উত্তরে বলল, না পারিনি। রাজধানীতে পচা আলু ছুড়তে আসা মানুষের লাইন এই কোল্ড স্টোরেজে আলু রাখতে আসা মানুষের লাইনের চেয়েও লম্বা। তাই স্বৈরশাসককে পচা আলু ছোড়ার শখ মিটে গেছে।

আলু চোরাকারবারি

সীমান্তে চোরাকারবারিদের উৎপাত বন্ধ করতে সীমান্তরক্ষীরা এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিল, যদি কোনো চোরাকারবারি মালামালসহ ধরা পড়ে, তবে প্রথমে তার মুখে সেই মালামালের অংশ ঢুকিয়ে রোদে দাঁড় করানো হবে এক ঘণ্টা। তারপর অন্য বিচার। যেই চিন্তা সেই কাজ, এলাচি নিয়ে ধরা পড়া চোরকারবারিকে সহজেই শাস্তি দেওয়া গেল। পরের জন ধরা খেল পিঁয়াজ নিয়ে। ছোট ছোট পিঁয়াজ বেছে তার মুখেও দেওয়া হলো। এরপর ধরা পড়ল আলু চোরাকারবারি। ছোট আলু না পেয়ে আলু কেটে কেটে তার মুখে ঢুকানো হলো। কিন্তু বিপত্তি বাধল অন্য জায়গায়। একটা করে আলুর টুকরো তার মুখে ঢোকানো হচ্ছে আর সে খিলখিল করে হাসছে। মেজাজ খারাপ হলো সীমান্তরক্ষীদের, একটা চড় কষিয়ে জিজ্ঞেস করল, ব্যাটা, হাসছিস কেন? আলু চোরাকারবারির উত্তর, স্যার, হাসছি আমার পিছনে থাকা ওস্তাদের কথা ভেবে। উনি তো নারিকেল নিয়ে আসছেন। তার মুখে কীভাবে ঢুকাবেন?

 

আলু নিয়ে রাজনীতি

আলু উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ এক জেলায় নির্বাচনী প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। তবে আলুর ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষক ভোটাররা। তাদের খুশি করতে অভিনব সব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। একজন বললেন, আমাকে ভোট দিলে সবাইকে ইটের বাড়ি বানিয়ে দেব, যার নিচতলায় থাকবে একটি করে কোল্ড স্টোরেজ। আরেক প্রার্থী বললেন, গ্রামের নদীতীরে এমন বন্দর বানিয়ে দেব যে, সেখানে জাহাজ ভিড়বে আর সেই জাহাজে আপনাদের আলু সোজা বিদেশে চলে যাবে। তৃতীয় প্রার্থী বললেন, আমি এমন বিমানবন্দর বানিয়ে দিব যে, আপনারা মুহূর্তেই আলু নিয়ে বিদেশে উড়ে যাবেন আর আলু বিক্রির টাকা দিয়ে বাজার সদাই করে সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরতে পারবেন। আলুর চিপসের প্যাকেট ছিঁড়ে চিপস খেতে খেতে সব কথা শুনছিলেন দুই বন্ধু। একজন জিজ্ঞেস করল, বন্ধু বলতে পার, এ চিপসের প্যাকেট আর ভোট প্রার্থীদের মধ্যে কী মিল? অপর বন্ধু জবাব খুঁজে পেল না। হাসতে হাসতে প্রথম বন্ধু বলল, উভয়েই ওপর থেকে দেখতে ভালো। বেশ মোটাসোটা। কিন্তু ভিতরে শুধুই বাতাস!

 

আলুর চিপস বনাম টুথব্রাশ

টুথব্রাশ কোম্পানির মার্কেটিং বিভাগের এক কর্মীর বিক্রি প্রতি মাসেই সবার চেয়ে উপরে থাকে। বছর শেষে তাকে পুরস্কৃত করা হয় এবং জানতে চাওয়া হয় এর রহস্য কি। বিক্রয়কর্মী অনুমতি নিয়ে প্রথমে সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে এক ডজন টুথব্রাশ বের করে বসের টেবিলে রাখেন। এরপর টুথব্রাশের পাশে রাখেন এক প্যাকেট আলুর চিপস। বস জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি টুথব্রাশের সঙ্গে আলুর চিপস ফ্রি দাও? বিক্রয়কর্মী বললেন, বস প্রশ্নের উত্তর পরে দেব, আগে অনুগ্রহ করে প্যাকেট খুলে একটি আলুর চিপস মুখে দিয়ে আমাকে ধন্য করুন। বিক্রয়কর্মীর কথার জাদুতে বস খুব খুশি হলেন এবং প্যাকেট খুলে একটি আলুর চিপস মুখে দিলেন। এই আলুর চিপস ছিল জঘন্য স্বাদের, যা মুখে দেওয়া মাত্র বসের গা গুলিয়ে বমি হওয়ার জোগাড়। এই সুযোগই খুঁজছিলেন বিক্রয়কর্মী। বললেন অনুগ্রহ করে ২০টি টাকা দিন আর একটা টুথব্রাশ নিয়ে ওয়াশরুমে গিয়ে দাঁত ব্রাশ করে ফেলুন। দেখবেন ভালো লাগবে। বস টাকা দিয়ে ব্রাশ নিয়ে ওয়াশরুমে ছুটলেন। ফিরে এসে দেখলেন বিক্রয়কর্মী গায়েব।


আপনার মন্তব্য